ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৫

বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৫
×

ছবি: সমকাল

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সময় একাধিক রাউন্ড গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, পাঁচটি তাজা ককটেল ও পাঁচটি বুলেট উদ্ধার করেছে।

আহতদের মধ্যে ফারুক মিয়া, সোহেল মিয়া, শাহপরান, খোকন মিয়া, লালু মিয়া, ফজর আলী, বকুল মিয়া, আশরাফুল, হাবি মিয়া, সুমন মিয়া, আলমগীর হোসেন ও স্বাধীন মিয়া রয়েছেন। তাদের বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত স্বাধীন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নিহত জুয়েল মিয়ার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুর উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে। তার বাবার নাম ছেন্টু মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের শেবু সরকার বাড়ি ও আজগর আলী সরকার বাড়ির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে গত ৩০ জুন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার পর সেফু সরকার বাড়ির লোকজন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছিলেন।

সোমবার রাত ৩টার দিকে সেফু সরকার বাড়ির লোকজন এলাকায় ফিরে এলে দুই পক্ষের মধ্যে গুলি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

গ্রাম পুলিশ আব্দুর রহমান জানান, রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ককটেলের শব্দ শুনে তিনি ঘুম থেকে ওঠেন। এ সময় গুলির শব্দও শুনতে পান। মুক্তার হোসেনের দলের সঙ্গে আজগর আলী বাড়ির লোকজনের সংঘর্ষ হয়। তিনি দুজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন, অন্যজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শান্তিপুর গ্রামের আজগর আলী সরকার বাড়ির ইসমাইল বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে মতি মিয়ার ছেলে মুক্তার হোসেনের নেতৃত্বে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বহিরাগত ব্যক্তিরা তাদের গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় গুলি ও ককটেলের আঘাতে তাদের অনেকে আহত হন। হামলাকারীদের বেশির ভাগ নরসিংদী এলাকার লোকজন বলে দাবি করেন তিনি। পরে গ্রামবাসী তাঁদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যান।

অন্যদিকে সেফু সরকার বাড়ির মুক্তার হোসেন বলেন, তারা বাড়িতে গেলে আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। এতে তাদের ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন। জুয়েল নামে একজন নিহত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে কোনো বহিরাগত ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার লিটন আব্দুল্লাহ বলেন, নিহত জুয়েল মিয়া হাসপাতালে আসার আগেই মারা যান। আহত স্বাধীন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে জুয়েল মিয়া নামে একজন নিহত হয়েছেন। আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, পাঁচটি তাজা ককটেল ও পাঁচটি বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×