ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সকালে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার কথা, ভোরে মিলল সিঙ্গাপুরপ্রবাসীর মরদেহ

সকালে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার কথা, ভোরে মিলল সিঙ্গাপুরপ্রবাসীর মরদেহ
×

রুকন উদ্দিন

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:২৮

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গোয়ালঘরের পাশে গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রুকন উদ্দিন (২৪) নামে এক সিঙ্গাপুরপ্রবাসী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রুকন উদ্দিন ওই এলাকার কৃষক সাত্তার মিয়ার ছেলে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান।

থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাড়ির গোয়ালঘরের পাশে একটি গাছে রুকন উদ্দিনের মরদেহ ঝুলতে দেখেন তার ভাই রুবেল মিয়া। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের ভাই রুবেল মিয়া বলেন, ‘আমার ভাই ২১ আগস্ট সিঙ্গাপুর থেকে দেশে এসেছে। রাত ১০টায় খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিল। ভোরে আমি শৌচাগারে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে দেখি, গোয়ালঘরের পাশে আমার ভাইয়ের হাত-পা বাঁধা মরদেহ ঝুলছে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।’

নিহতের বাবা সাত্তার মিয়া বলেন, তার দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। রুকন ছিলেন ছোট ছেলে। তিন বছর আগে জমি বিক্রি করে তাকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিলেন। সেখানে একটি কোম্পানিতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন রুকন। সম্প্রতি তিনি সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। দেশে ফিরে ওই পদেই কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার।

সাত্তার মিয়া বলেন, ‘বাড়ির কাজ ধরবে বলে কিছু টাকাও জমিয়েছিল। কিন্তু আমার ছেলের আর স্বপ্ন পূরণ হলো না। ও আমাদের হজ করিয়ে এনেছে। ওর কোনো শত্রু ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, রাতে তিনি বাড়িতে থাকেন না। ক্ষেতে সেচের পানি দিতে রাতে জমির পাশেই থাকতে হয়। ভোরে নাতনি ডেকে পাঠালে বাড়িতে এসে ছেলেকে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

সাত্তার মিয়া বলেন, ‘ঘুরতে যাওয়ার জন্য ছেলে আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চেয়েছিল। আমি তাকে সেই টাকা দিয়েছিলাম। আমার ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার কথা বলেছিল। এ জন্য সোমবার ভৈরব শহরে বন্ধুদের সঙ্গে কেনাকাটাও করেছিল।’

নিহতের মা অনুফা বেগম বলেন, ‘আমার সোনার টুকরা ছেলেকে কেন এবং কারা হত্যা করল? আমার ছেলের তো কোনো শত্রু ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার ভোরে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার কথা ছিল ওর। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিল। যেহেতু ভোরে চলে যাবে, তাই রাতে খুব কথা বলতে ইচ্ছে করলেও ডাকিনি। রাত ১টার দিকেও ওকে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতে শুনেছি। রাত ১টার পর কোনো একসময় আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কে বা কারা বসতঘরের পাশে মেরে গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছে।’

নিহতের বোন উম্মে হাবীবা বলেন, মঙ্গলবার ভোরে তার ভাইয়ের বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে ঘুরে আবার সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কথা ছিল তার। বাড়ির কাজ শেষ করে দেশে ফিরে বিয়ে করার পরিকল্পনাও ছিল। বাড়ির নকশাও পছন্দ করেছিলেন তিনি।

উম্মে হাবীবা বলেন, ‘ওর অনেক স্বপ্ন ছিল। রাতে ওকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি ওর মোবাইল ফোন থেকে সিমকার্ডও খুলে নিয়ে গেছে। আমরা চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা রুকনকে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে রেখে গেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×