ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাধবপুর

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ, ৮ দিনে ভর্তি ৫০

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ, ৮ দিনে ভর্তি ৫০
×

ছবি- সমকাল

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৫:৩১

হামের দাপটের মাঝেই মাধবপুর উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে এমন বাস্তবতা চোখে পড়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশীদের তুলনায় এমনিতেই শয্যা সংখ্যা অপ্রতুল। তার মধ্যে হামের কারণে বেড়েছে রোগী ভর্তির চাপ। শয্যা সংকটে ভবনের যেখানেই ফাঁকা স্থান আছে, সেখানেই ঠাঁই নিচ্ছেন রোগীরা। সেই সংকট আরও তীব্র করে তুলেছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব।

মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল দেখা গেছে রোগী ভর্তির চাপ। যার মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। রোগীর চাপে হাসপাতালের ওয়ার্ডে নেই স্বাভাবিক পরিবেশ। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় ছোট শিশুদের মেঝেতে রেখেই দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা। আর তাদের আশপাশে কোনোরকম বিছানা পেতে আছেন অভিভাবকরা।

এমন অবস্থায় রোগী ও স্বজনের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এভাবে চিকিৎসা নেওয়া লাগবে ভাবাই যায় না। সামান্য বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই। অসুস্থ শিশুরাও একটু স্বস্তিতে ঘুমাতে পারছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই আট দিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে ৫০ জন। এ ছাড়া অর্ধশতাধিক রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে অনেক অভিভাবককে ওয়ার্ডের ভেতরে ও বাইরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শয্যা সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিশুদের।

চৌমুহনী ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের আশা উদ্দিনের আট বছর বয়সী মেয়ে আকলিমা আক্তার গত শুক্রবার থেকে জ্বরে আক্রান্ত হয়। বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে রোববার দুপুরে তাকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আশা উদ্দিন বলেন, চিকিৎসক ওষুধ লিখে দিয়েছেন। সেগুলো বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়েছে।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন, হাম আক্রান্ত তিন বছর বয়সী ইস্পা আক্তারের বাবা আব্দুর রহিম। গত রোববার তিনি মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পেশায় সবজি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, মেয়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।

হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে, শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য খরচ বহন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন অনেক অভিভাবক।

এদিকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত শয্যা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীর স্বজনরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি জ্বর, হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশু ও সাধারণ রোগীও এখানে চিকিৎসা নিতে আসছে। ফলে হাসপাতালের সীমিত শয্যা ও অবকাঠামোর ওপর চাপ আরও বাড়ছে।

স্থানীয়দের মতে, ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা বাড়ানো নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতালে রোগীর জন্য পর্যাপ্ত শয্যা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গত বছর ডেঙ্গু জ্বরের তেমন প্রভাব ছিল না। এ বছর অনেক ডেঙ্গু রোগীর ভিড় বাড়ছে।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী শয্যা ও চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনা করতে কর্তৃপক্ষ ও সেবা সংশ্লিষ্টরা নিবেদিতভাবে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন

×