লামায় রিসোর্টে হামলার পর পর্যটক নিয়ে শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৮ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পাহাড়ের অপরূপ নৈসর্গিক দৃশ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় পর্যটনশিল্প। গত দু’তিন বছরে মিরিঞ্জার কোলজুড়ে শতাধিক রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু পর্যটকের আগমনে মুখরিত থাকে এসব রিসোর্ট। এর ওপর ভিত্তি করে লামা ও চকরিয়ার পরিবহন, মুদি-মনোহারি, কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প ও জুমের রকমারি ফলমূলের ব্যবসায় নতুন গতি এসেছে।
সম্প্রতি লাভজনক হয়ে ওঠা এই রিসোর্ট-বাণিজ্য দখলে নিতে এবং ব্যবসায়িক ঈর্ষা থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র অপতৎপরতা শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পর্যটকদের ওপর অতর্কিত হামলা, চুরি ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে পর্যটন এলাকার সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরিঞ্জা ভ্যালিতে অবস্থিত ‘রয়েল হিল রিসোর্টে’ হামলা, ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টা চালানো হয়। মালিকপক্ষের অভিযোগ, এদিন দুপুরে লামা ও চকরিয়া থেকে সশস্ত্র লোকজন নিয়ে এসে রিসোর্টে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি মারধরে মালিক ও সাত কর্মচারীসহ অন্তত ৯ জন আহত হন।
রিসোর্টের মালিক মো. রাসেল চৌধুরী জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় সুলতান মাহমুদ, মো. জাফর, মোয়াজ্জেম হোসেন, মোহাম্মদ আরিফ, শাহাদাত হোসেন ও আইয়ুবের নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জন লোক জোরপূর্বক রিসোর্টে প্রবেশ করে। তারা ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায়। তিনি দাবি করেন, এ হামলায় তিনি নিজে এবং তাঁর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আহত হন।
রিসোর্টের যৌথ মালিক সঞ্চিতা চাকমা
অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করে গলা থেকে প্রায় ৩ ভরি ওজনের সোনার হার ছিনিয়ে নিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সুলতান মাহমুদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
জানা গেছে, ‘রয়েল হিল রিসোর্ট’-এর জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ চলছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলা অবস্থাতে এক পক্ষ জোরপূর্বক রিসোর্টটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। ঘটনার পর লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে লামা থানাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে লামার পর্যটন ব্যবসার নিরাপত্তা বিধান ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মিরিঞ্জায় অবিলম্বে একটি ‘ট্যুরিস্ট পুলিশ ক্যাম্প’ স্থাপনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ।
এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তিনি বলেন, ঘটনাটি বর্তমানে আদালত ও পুলিশের তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- পর্যটক