ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আইনি জট খুললেও অপেক্ষা পদোন্নতির

শিক্ষকদের ডিজিটাল গ্রেডেশন

আইনি জট খুললেও অপেক্ষা পদোন্নতির
×
×

 নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরাঞ্চল

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কে হবেন, তা নির্ধারণে এখন শুধু পুরোনো নিয়োগপত্র নয়, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শিক্ষকদের তথ্যের ডিজিটাল ও নিখুঁত যাচাই। জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, মোট চাকরিকাল এবং সন্তোষজনক কর্মসম্পাদনসহ যাবতীয় তথ্য এক সুতোয় গেঁথে তৈরি হচ্ছে নতুন জ্যেষ্ঠতার তালিকা। সেই তালিকার ভিত্তিতে দীর্ঘ প্রায় এক দশকের আইনি ও দাপ্তরিক বাধা পেরিয়ে অবশেষে এগোচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত পদোন্নতি প্রক্রিয়া।

বগুড়ায় এমন নিখুঁত ও তথ্যভিত্তিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে ৮১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে। জেলার ১ হাজার ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮১৬টিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক রায়ে দীর্ঘদিনের আইনি জট খুললেও হাজার হাজার সহকারী শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ডিজিটাল যাচাই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সেই পদে বসতে পারছেন না শিক্ষকেরা।

প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকার মূলে ছিল ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ-সংক্রান্ত আইনি বিরোধ। ওই বিধিমালার ৯(১) ধারায় সরাসরি সরকারি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে রিট করেছিলেন জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের ৩৮৩ জন শিক্ষক। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২ জুলাই প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে ২০১৩ সালের বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান বহাল রাখেন।

এদিকে আইনি বাধা দূর হলেও রায়ের পর শুরু হয়েছে নতুন কর্মযজ্ঞ। উপজেলা পর্যায়ে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষকের যাবতীয় তথ্য আপলোড করে ডিজিটালি জ্যেষ্ঠতার ক্রম প্রস্তুত করা হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন জানান, শিক্ষকদের জন্মসনদ, নিয়োগপত্র ও সার্ভিস বুক ডাবল চেক করে সফটওয়্যারে নির্ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে, যাতে পরে জ্যেষ্ঠতা নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি না হয়। তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায় থেকে এসব তথ্য যাচাই শেষে জেলা কার্যালয় হয়ে তালিকা যাবে ডিপিই বা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে। এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জেলার শূন্য থাকা ৮১৬টি স্কুলের মধ্যে ২১টিতে সহকারী শিক্ষকরা ‘চলতি দায়িত্বে’ এবং বাকিগুলোতে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকরা ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে দ্বৈত ভূমিকা পালন করছেন। সকালে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি তাদের দাপ্তরিক চিঠি, আর্থিক ও প্রশাসনিক সব কাজ একা সামলাতে হচ্ছে। বগুড়ার ১৩টি উপজেলার মধ্যে গাবতলী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ১০৫টি স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। এ ছাড়া ধুনটে ১০৩, সারিয়াকান্দিতে ৯৮ ও শেরপুরে ৭৩টিসহ অন্যান্য উপজেলায়ও বহু পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ প্রধান শিক্ষকের পদ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হবে। ফলে ৮১৬টি শূন্য পদের বিপরীতে বিপুলসংখ্যক সহকারী শিক্ষক যখন পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হবেন, তখন স্বাভাবিকভাবে সহকারী শিক্ষকের পদে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে।
সারিয়াকান্দি উপজেলার নবাদরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী বলেন, পদোন্নতি হলে প্রশাসনিক কাজে গতি ফিরবে ঠিকই, কিন্তু সহকারী শিক্ষকের নতুন পদগুলো দ্রুত পূরণ করা না হলে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ব্যাহত হবে।
সহকারী শিক্ষক আকরাম হোসেন জানান, ১০ বছর পর আইনি জটিলতা শেষ হওয়ায় শিক্ষকেরা আশায় বুক বেঁধেছেন। তথ্যভান্ডারের ওপর ভর করে এখন প্রত্যেকে নিজ নিজ জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনের প্রহর গুনছেন।

আরও পড়ুন

×