সকালে কাটার প্রস্তুতি, গভীর রাতে উপড়ে পড়ল ‘ভূতুরে’ বটগাছ
উপড়ে পড়া বটগাছ
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:১৬ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:২৬
একটা সময় শতবর্ষী শেওড়া গাছ ছিল। গাছের গোড়ায় করা হতো পূজা-মানত। ১৯৯৮ এর বন্যায় শেওড়া গাছটি মারা যায়। আর সেই গাছের গোড়া থেকে জন্ম নেয় একটি বটগাছের চারা। চারা গাছটি ধীরেধীরে বড় হতে থাকলে স্থানীয়দের বসবাসের ঝুঁকি তৈরি হতে থাকে। একপর্যায়ে গাছটি সোমবার সকালে কাটার জন্য নেওয়া হয় স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কার্যালয়ে অনুমতি। ঠিক করার হয় গাছকাটার ১৮জন শ্রমিকও। তবে কোনো প্রকার ঝড়, বৃষ্টি কিংবা বাতাস ছাড়ায় হঠাৎ গভীর রাতে সেই বটগাছটি উপড়ে পড়ে যায়।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলংগী এলাকায় ঘটে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এতে একটি পাকাবাড়ির আংশিকসহ কয়েকটি টিনের ঘর ভেঙে গেছে। ভেঙে গেছে চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটিও। এ ঘটনায় বিদ্যুতায়িত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন ভ্যানচালক শহিদের স্ত্রী মিনি খাতুন (৫০)। এছাড়াও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন অন্তত ১৫০টি পরিবারের মানুষ।
আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এলংগী এলাকাটি বেশ ঘনবসতিপূর্ণ। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার কয়েক’শ পরিবারের বসবাস। এলংগী এলাকার মধ্যপাড়ার সিসি ঢালাইয়ের সড়ক ঘেঁষে ভ্যানচালক শহীদের বাড়ির পেছনে থাকা প্রায় ৩০ বছরের বটগাছটি উপড়ে পড়েছে। অন্তত ১৮ জন শ্রমিক গাছটি কেটে অপসারণের চেষ্টা করছেন। কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ক্ষত। অন্তত ৪টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। মাটিতে পড়ে আছে তার।
এ সময় ভ্যানচালক শহীদের আহত স্ত্রী মিনি খাতুন বলেন, রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। কোনো ঝড়-বৃষ্টি নেই। হঠাৎ রাত ৩টার দিকে মড়মড় শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্যুতের তারসহ গাছটি ঘরের চালে। শরীর কাঁপছিল। চিৎকার শুনে লোকজন উদ্ধার করেছে।
ভ্যানচালক শহিদ শেখ বলেন, আজ (বুধবার) সকালেই গাছটি কাটার কথা ছিল। কিন্তু গভীর রাতেই উপড়ে পড়ে গাছটি। এতে আমার স্ত্রী আহত। শোবারঘর, রান্নাঘর ভেঙে গেছে। এখন মেরামত করার মতো সামর্থ্য নেই। সরকার যদি একটু সহযোগিতা করত, তাহলে বাঁচতাম।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (৬৫) বলেন, আগে শেওড়া গাছ ছিল। তখন অনেকেই ভূত-টুত দেখেছিল। গাছের ডালপালা কাটলে ক্ষতি হতো। সেজন্য মানুষ আগে গাছের গোড়ায় পূজা-মানত করতেন। এরপর ১৯৯৮ এর বন্যায় গাছটি মরে যায় এবং গোড়া থেকে বটগাছ জন্ম নেয়।
রবিউল ইসলাম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, বটগাছটির জন্য বসতবাড়ির ক্ষতি হচ্ছিল। সেজন্য গাছটি কাটতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতেই হঠাৎ গাছটি উপড়ে ঘরবাড়ি ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে।
চারটি খুঁটি ভেঙে প্রায় ১৫০ পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বলে জানিয়েছেন কুমারখালী ওজোপাডিকোলির আবাসিক প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। গাছকাটার কাজ শেষ হলে বিদ্যুতের সংযোগের কাজ শুরু করা হবে।
ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
- বিষয় :
- কুষ্টিয়া