ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টেকনাফে মাদ্রাসা-খানাকাহের সম্পত্তি দখল ও লুটের অভিযোগ

টেকনাফে মাদ্রাসা-খানাকাহের সম্পত্তি দখল ও লুটের অভিযোগ
×

ছবি: সমকাল

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:২৭

টেকনাফে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কাটাখালী হাফেজিয়া দারুল কোরআন ফুরকানিয়া মাদ্রাসা ও খানাকাহ। সময়ের পরিক্রমায় যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য। সেই মাদ্রাসা ও খানাকাহের সম্পত্তি নিয়ে এবার উঠেছে দখল ও লুটপাটের অভিযোগ। স্থাপনাটির প্রতিষ্ঠাতা শাহ সুফি আব্দুল কাদের ফকিরের ছেলে হাফেজ জালাল আহম্মদ এ অভিযোগ তুলেছেন।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তার বাবার মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির জায়গা-জমি, মার্কেট ও অন্যান্য সম্পত্তি কয়েকজন ব্যক্তি দখলে নেন। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ ও সম্পদসহ এক কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে। একই সঙ্গে জমি ও মার্কেটের আয়-ব্যয়েরও যথাযথ হিসাব দেওয়া হয়নি।

জালাল আহম্মদ জানান, তার বাবা ১৯৭০ সালে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী এলাকায় মাদ্রাসা ও খানাকাহটি প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি ধর্মীয় শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক সাধনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ওরসে অংশ নিতেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসক কর্তৃক তাকে গত ২৩ জুন তিন বছরের জন্য মোতাওয়াল্লি নিয়োগ প্রদান করলেও এই আদেশ মানছে না দখলদাররা।

তার অভিযোগ, ২০০৬ সালের ২৬ নভেম্বর বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় হোসেন আলীর সন্তান ছৈয়দ আমিন (মৃত), রশিদ আমিন, নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আমিন ও জুলেখা বেগমসহ কয়েকজন প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তি দখলে নেন। এ ছাড়া অভিযুক্তদের কয়েকজন ১৯৭৮ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়সহ সম্পত্তির মালিকানা, দখল ও আয়-ব্যয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন জালাল আহম্মদ।

জালাল আহম্মদ আরও বলেন, সম্পত্তির মালিকানা, দখল ও আয়-ব্যয়ের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক। আমরা কোনো সংঘাত চাই না আইন ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সুরক্ষা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করাই আমাদের দাবি।

অভিযুক্ত নুরুল আমিন বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব ফরাজ খাতুন ছৈয়দ আমিনকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। জায়গাটির মালিক ফকির সাহেব নন, ফরাজ খাতুন। মৃত্যুর আগে তিনি আমাদের নামে জায়গাটি লিখে দিয়ে গেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও আদালতের রায় ভুয়া। বর্তমানে জায়গাটি আমাদের দখলে রয়েছে।

হাফেজ জালাল আহমেদের ছেলে নুরুল আফসার অভিযোগ করেন, মাদ্রাসাটি দখলের পর রাতে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা ও মাদক কেনাবেচা চলে। এ স্থান থেকে মাদকসহ একজন আটকের ঘটনায় মামলাও রয়েছে। তার দাবি, মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ওয়াক্‌ফ মোতাওয়াল্লি নিয়োগ দিলে প্রতিষ্ঠানের দেখভাল ও পরিচালনার দায়িত্ব তার ওপর বর্তায়। কেউ এ নিয়ম অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×