মাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ‘মাদকাসক্ত’ ছেলের যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৫৫
চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানার গোসাইলডাঙ্গায় মাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার দায়ে সুমিত চৌধুরীকে (৩১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। বুধবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর পঞ্চম দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত এ রায় দেন। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামি সুমিত চৌধুরী মাদকাসক্ত ছিলেন।
সুমিত চৌধুরী চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার আমিলাইষ এলাকার মধু চৌধুরী বাড়ির সুখময় চৌধুরীর ছেলে। তবে পরিবারের সঙ্গে নগরের গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় থাকতেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে গিয়ে পালিয়ে যান সুমিত। আজ রায় ঘোষণার সময়ও আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে নগরের গোসাইলডাঙ্গার সাসটেইন টাওয়ারের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে কুমকুম চৌধুরীকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন নিহত নারীর বড় ছেলে সোমনাথ চৌধুরী কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে দীর্ঘ সময় দরজায় ধাক্কা দেন। কিন্তু অনেকক্ষণ পরও দরজা বন্ধ থাকে। একপর্যায়ে সুমিত চৌধুরী দরজা খুলে দেন। পরে সোমনাথ তার মাকে শোয়ার ঘরের বিছানায় গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
এ সময় সুমিতের ঘাড়েও রক্তাক্ত জখম ছিল। পরে সুমিত তার ভাইকে জানান, তিনি মাকে হত্যা করেছেন এবং দা দিয়ে নিজের ঘাড়েও আঘাত করেছেন। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, ছেলে মাদকাসক্ত থাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই আদালতে সুমিতের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে মাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছেলে সুমিত চৌধুরীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- বিচার