আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন
যশোরে হোটেল জাবির ট্র্যাজেডিতে জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ
ফাইল ছবি
যশোর অফিস
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:০৮
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনালে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ২৪ জন নিহতের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সাত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন সম্প্রতি আদালতে এ প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে তদন্তকালে গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।
অব্যাহতি চাওয়া সাতজন হলেন মো. আব্দুল খালেক (৬৫), মো. এনামুল হক (৫৯), আব্দুর রহমান শাওন (৩৬), অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন জনি (৪১), এস এম আজাহার হোসেন স্বপন (৫২), কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল (৩১) ও মো. ইমন কাজী (২৬)। তাদের বিভিন্ন সময়ে আটক করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
বুধবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন বলেন, সম্প্রতি আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো সাত আসামির অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। মামলার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরের চিত্রা মোড় এম এম আলী রোডে শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন ‘জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ হোটেলটি অবস্থিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে হোটেলে ঢোকে। তারা হোটেলের ক্যাশ ভল্ট ভেঙে ৯০ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে হোটেলের বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল প্রায় ১০০টি ফ্রিজ, ১০০টি স্মার্ট টেলিভিশন, ৪৫০ কিলোভোল্টের দুটি জেনারেটর, স্টোরে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও আসবাবপত্র, এক হাজার কিলোভোল্টের ট্রান্সফরমারসহ সাবস্টেশন, প্রেসার পাম্প, সাইবার স্টেশন ও ফায়ার ইঞ্জিন।
এরপর হোটেলের প্রথম থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত গানপাউডার ও পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে হোটেলে থাকা একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিকসহ ২৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। নিহতদের মধ্যে হোটেলের স্টাফ ও বোর্ডার ছিলেন।
এ ঘটনায় ১৮ আগস্ট শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা প্রায় ২০০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলার বাদীর অভিযোগ, হোটেলের আলমারিতে রাখা শাহীন চাকলাদারের বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যবান কাগজপত্র, আসবাবপত্র, স্টোরে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও ইলেকট্রিক সামগ্রী পুড়ে যায়। এ ছাড়া তিনটি লিফট, জানালার গ্রিল ও কাচের দরজার ডেকোরেশনও পুড়ে ভস্মীভূত হয়। আগুনে মূল ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
মামলার দীর্ঘ তদন্তকালে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বিভিন্ন সময়ে সাতজনকে আটক করা হয়। তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ কারণে ওই সাতজনের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।