রাকসু জিএস আম্মার ছিলেন শিবিরের সাথি
আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ
সালাউদ্দিন আম্মার। ফাইল ছবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৩৯ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:০৪
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে রাজশাহী নগর ভবন থেকে ল্যাপটপ চুরি, ছাত্রশক্তির পদে বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পদ স্থগিত করে শিবির। অভিযোগের জবাব দিতে না পারায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে সংগঠনটি তাঁকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেয়।
সম্প্রতি শিবিরের সব পর্যায়ের সদস্যদের আম্মারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়ে নেতাদের একটি চিঠি দিয়েছে সংগঠনটির শাখার সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। বুধবার রাতে সমকালকে চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শিবিরের ২০২৫ মেয়াদের কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক আহাম্মেদ মুন্সী ও বর্তমান কমিটির দুই দায়িত্বশীল নেতা।
গত ৩১ আগস্ট শাখা শিবির সভাপতির সই করা চিঠিতে বলা হয়, নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে সংগঠনের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে তার সাথি পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে আম্মারের ‘সাথি’ পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে তার কর্মকাণ্ড এবং ক্যাম্পাসে ‘ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার ফলে’ ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে ক্যাম্পাসকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আম্মারের সঙ্গে শিবিরের দায়িত্বশীল নেতাদের যোগাযোগ বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, এ অবস্থায় তাকে অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে পরিহার এবং কোনো নেতিবাচক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলরা যেন তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখেন এবং সব স্তরের জনশক্তিকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাখা শিবিরের এক নেতা সমকালকে বলেন, আম্মারের বিরুদ্ধে নগর ভবন থেকে ল্যাপটপ চুরি, মহানগর ছাত্রশক্তির পদ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে ওই কমিটির কাছে আম্মার যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হন।
আম্মারের পদ ও রাজনৈতিক বিষয়ে জানতে চাইলে এই নেতা বলেন, আম্মার মূলত তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা শাখার সাথি। রাবি শাখায় তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন বিকল্প সাহিত্যে কাজ করতেন। এই সংগঠন মূলত শিবিরের জনশক্তি দিয়ে পরিচালিত। আম্মার আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাইয়ের পরে পর্যন্ত শিবির করতেন।
নাম প্রকাশ না করে শিবিরের আরেক নেতা বলেন, শিবির মূলত প্রথমে নিয়ম অনুযায়ী তার পদ স্থগিত করে অভিযোগের জবাব চায়। তবে সে উত্তর দেওয়ায় ব্যর্থতার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি আরও কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় এবং তার আচরণের কারণে এই চিঠি দেওয়া হয়।
তবে শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন আম্মার। রাকসু নির্বাচনে শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে আলোচিত হওয়া ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের পরেই ক্যাম্পাসে একাধিক মবের ঘটনা, রাকসুর তহবিলের আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের মারধরসহ একাধিক ঘটনায় বিতর্কিত হন আম্মার। সংবাদ সম্মেলন করে শাখা শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আম্মারের কোনো দায় নেবে না শিবির।
এ বিষয়ে কথা বলতে আম্মারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।