উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, আক্রান্তের বড় অংশ শিল্পাঞ্চল ফেরত
ফাইল ছবি-সংগৃহীত
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, চলতি মাসে উপজেলায় ৩৭ জন রোগী ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে গত চার দিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাতজন। আক্রান্তদের দু-একজন স্থানীয় হলেও বড় একটি অংশ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের মতো শিল্পাঞ্চল থেকে কাজ শেষে গ্রামে ফেরা মানুষ।
১০ শয্যার ডেঙ্গু কর্নারে চিকিৎসা গত সোমবার দুপুরে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে আলাদাভাবে ১০ শয্যার একটি ‘ডেঙ্গু কর্নার’ তৈরি করে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে বর্তমানে ভর্তি থাকা সাতজন রোগী মূলত তীব্র জ্বর, সর্দি, বমি ও তীব্র মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা তাদের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুনাইগাছ পশ্চিম কালুডাঙ্গা গ্রামের ইছামুর রহমান (৬৫) জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িতে জ্বরে ভুগছিলেন। কোনোভাবে জ্বর না কমায় স্থানীয় ক্লিনিকে পরীক্ষা করা হলে চিকিৎসকেরা ডেঙ্গু ধরা পড়ার কথা জানান। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ভর্তি হন।
কর্মস্থল থেকে ফিরে আকস্মিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া আবদুল্লাহ আল নাঈম (১৮), নাজমুল হাসান (৩২), ফারুক মিয়া (২০), শাহিন আলম (২৭), শামসুল আলম (২৬) ও মুকুল মিয়া (৪৩) জানান, ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে বাড়িতে আসার পর প্রথমে তাদের হালকা জ্বর শুরু হয়। পরে রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ আসে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চেষ্টার কমতি নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকসহ সেবায় নিয়োজিতরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তানজিলুর ইসলাম জানান, হাসপাতালে আসা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত কর্নারে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি রোগীদের বেশি করে ডাবের পানি, স্যালাইন ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের বেশির ভাগই ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকা থেকে সংক্রমিত হয়ে এসেছেন। তবে স্থানীয়ভাবে যাতে মশার মাধ্যমে তা ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বলেন, ‘চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৩৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন সাধারণ রোগীরও উপচে পড়া চাপ থাকে। তবুও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ জ্বর হলেও অবহেলা না করে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’
- বিষয় :
- মশা
- ডেঙ্গু রোগী
- কুড়িগ্রাম