ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ভবদহে বৃষ্টিতে প্লাবিত ২০০ গ্রাম, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

৫ অক্টোবর ভবদহ দিবসে পদযাত্রা ও সমাবেশের ডাক

ভবদহে বৃষ্টিতে প্লাবিত ২০০ গ্রাম, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ
×
×

অব্যাহত বৃষ্টিতে আবারও প্লাবিত ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ২০০ গ্রাম। ছবিটি অভয়নগর সুন্দলী ইউনিয়নের মশিয়াহাটি অঞ্চলের। ছবি-সমকাল

যশোর অফিস

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৫২ | আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

গত কয়েক মাসের অব্যাহত বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে যশোরের ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ২০০ গ্রাম। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। বছরের পর বছর ধরে ভবদহ অঞ্চলে এই দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ৫ অক্টোবর ভবদহ দিবসে পদযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি।

গতকাল বুধবার যশোরে সংগঠন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি ভবদহ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঘীপূর্ণিমার আগে কার্যকর ‘টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট’ (টিআরএম) বা জোয়ারাধার চালুর দাবি জানান।
যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলার নিম্নাঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। অভয়নগরের ভবানীপুর গ্রামে শ্রী নদীর ওপর নির্মিত ভবদহ সগেট দিয়ে ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হয়। পলি পড়ে এলাকার পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী নাব্য হারিয়েছে। ফলে নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। এ অবস্থায় বৃষ্টির পানিতে এলাকার বিলগুলো উপচে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে গাজী আবদুল হামিদ বলেন, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কার কাজ চলমান থাকলেও টিআরএম চালু না হওয়ায় সে টাকা অপচয় হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদী খননের পর পলি জমে তা দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিয়ের (আইডব্লিউএম) প্রস্তাবনা অনুযায়ী মাঘীপূর্ণিমার আগে (আগামী চার মাসের মধ্যে) একটি বিলে টিআরএম চালু না করা গেলে এবং আমডাঙ্গা খাল দ্রুত প্রশস্ত ও খনন না করা হলে এই জনপদের দুর্ভোগ কাটবে না।

সংবাদ সম্মেলনে কমিটির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে– আগামী মাঘীপূর্ণিমার আগে ভবদহ অঞ্চলে কার্যকর টিআরএম বা জোয়ারাধার চালু করা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খালের বিস্তৃত পুনর্খনন, প্রশস্তকরণ ও জমি অধিগ্রহণের বাধা দূর করা। এ ছাড়া চলতি মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে জমি আবাদের উপযোগী করতে পাউবো ও সেনাবাহিনীর প্রতি ১০টি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে– পাঁচাকড়ি-রাজবংশীপাড়া ও টেকার বেইলি ব্রিজের পাশের বাঁধ অপসারণ, ভবদহের ২১ গেটের লোহার বেড়া অপসারণ বা দুপাশ কেটে দেওয়া, ৯ গেটের উৎস মুখ কাটা, ভবদহ কলেজ ও কপালিয়া ব্রিজের নিচের বাধা অপসারণ, শোলগাতি ব্রিজের পাকা ঢালাই সরানো এবং টেকা ব্রিজ থেকে অবশিষ্ট চার কিলোমিটার ভাসমান এক্সক্যাভেটর দিয়ে দ্রুত খনন করা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, সদস্য শেখর বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, সুকেন্দু বিশ্বাস, রাজু আহম্মেদ, বাসন্তী মণ্ডল, সঞ্জয় বৈরাগী প্রমুখ।

পাউবো যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ছয়টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনর্খননের কাজ চলমান। এবার ভবদহ বিলের পানি বেড়ে ছিল তিন ফুটের মতো। ২১-ভেন্ট ভবদহ সগেটের সব কটি কপাট খোলা রয়েছে।। খুব দ্রুত এই পানি নেমে যাবে।

আরও পড়ুন

×