ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

সরকার সর্বশক্তি দিয়ে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী

সরকার সর্বশক্তি দিয়ে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী
×

ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৫৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার সর্বশক্তি দিয়ে সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে। দেশের জনগণ বিএনপি সরকারের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে। পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার ধ্বংস করা আইনের শাসন পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বৃহস্পতিবার ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট-মুহুরী সেতু এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন শেষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে আমরা দেখেছি কীভাবে আইনের শাসনকে ধ্বংস করা হয়েছে। আমরা সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে চাই এবং ধীরে ধীরে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু গোষ্ঠী বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের চেষ্টা সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন সদস্যের সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী অন্যের সমালোচনা করার আগে তাদের নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান ঘোষণা করেন, পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-তে উন্নীত করা হবে। এর ফলে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন না হলে মানুষকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে জেলা শহর কিংবা ঢাকায় ছুটতে হবে না এবং নিজ এলাকার কাছাকাছি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব হবে। সম্প্রসারিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ডায়ালাইসিস সেবা এবং মা ও শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। অতিরিক্ত ১০০টি শয্যা যুক্ত করার পাশাপাশি নতুন বিভাগও চালু করা হবে।

পরশুরামের ৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে হাসপাতালটির প্রথম ৩০টি শয্যা স্থাপন করা হয় এবং পরবর্তী সময় খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ৫০-এ উন্নীত করা হয়। হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি তার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে তিনি এর পরিবর্তে শয্যাসংখ্যা ১৫০-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপির নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এ স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বৃহত্তর খাল ও নদী পুনর্খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুহুরী ও কহুয়া নদীর সংযোগকারী খালটি পুনর্খননের কাজ শুরু করেছে।

তিনি ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার কথা স্মরণ করে বলেন, সেই সময় ফেনীতে সেতুর ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিল এবং নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বাড়িঘরও পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছাবে। এর ফলে, ফসল উৎপাদন আনুমানিক এক লাখ টন বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই সরকার তার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় তিনি জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি অঙ্গীকার করেন, যে কোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে। 

দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প 
বাসস জানায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয় পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খেয়াঘাট মুহুরী সেতু এলাকায়।

দুপুরে উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন। তিনি মাটি কেটে প্রকল্পের আওতায় একটি খাল পুনর্খননের কাজ উদ্বোধন করেন। ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে বালু অপসারণ করে নদী খনন এবং বাঁধ নির্মাণকাজও উদ্বোধন করেন।

এই প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনর্খনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন এবং সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×