রাউজানে ডাকাতদের গুলিতে ১২ পুলিশ সদস্য আহতের দাবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৩:৩৯
চট্টগ্রামের রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়াপাড়ায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে বাহিনীর ১২ সদস্য আহত হওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে দাবি করা হলেও স্থানীয়দের কেউ গুলির শব্দ শোনেননি। যদিও ঘটনাস্থল থেকে দিলদার হোসেন নামে গুলিবিদ্ধ এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা কাটা বন্দুকসহ ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি ও ৬ রাউন্ড সিসা কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ আহত, অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এসআই (নিরস্ত্র) জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই খোরশেদ আলম, এসআই বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, এএসআই রবিউল হোসেন রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে পুলিশ জানালেও স্থানীয় বাসিন্দারা গুলির শব্দ শোনেননি। কদলপুর এলাকার বাসিন্দা হামির হামজা বলেন, রাত ১২টা পর্যন্ত আমি জেগে ছিলাম। এর মধ্যে কদলপুর এলাকায় কোনো গুলির শব্দ আমরা শুনিনি। তবে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেছে বলে শুনেছি। স্থানীয় আরেক ব্যক্তি হাবিবুর রহমান বলেন, জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত আলমের সহযোগী গ্রেপ্তার হয়েছে শুনেছি। তবে গোলাগুলির শব্দ শুনিনি। এলাকায় পুলিশ আহত হওয়ার কথাও কেউ বলাবলি করছে না।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম দাবি করেন, সন্ত্রাসী জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম, মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ১০টা ৪০ মিনিটে দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়াপাড়ায় জানে আলমের বসতঘরের সামনে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বসতঘরের ভেতরে থাকা ডাকাত আলম, আজিজ বস, দিলদার হোসেন, মো. রুবেল, মো. মামুন-অর-রশিদ, মো. বাঁচাসহ সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।