স্থায়ী ঠিকানা জটিলতায় আটকে গেল মিশন আচার্যের প্রাথমিকের নিয়োগ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:৪১
ঝিনাইদহে স্থায়ী ঠিকানা জটিলতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মিশন আচার্যের নিয়োগ আটকে গেছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় হতাশ মিশন ও তার পরিবারের সদস্যরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় বলছে, গোয়েন্দা সংস্থার ঠিকানা যাচাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে স্থায়ী ঠিকানার তথ্যের মিল না পাওয়ায় মিশনের নিয়োগ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে তার নামে থাকা জমির দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনই হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
মিশন বর্তমানে তার মা ময়না আচার্য ও নানি সুবর্ণা বিশ্বাসকে নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় একটি সেমিপাকা বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকেন। মাসে তাদের ভাড়া দিতে হয় ১ হাজার ২০০ টাকা। পরিবারের সদস্যরা জানান, বয়সের কারণে ময়না এখন আর আগের মতো অন্যের বাড়িতে কাজ করতে পারেন না।
পরিবারের ভাষ্য, মিশন এর আগে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পদেও লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তখনও ঠিকানা যাচাইয়ে তিনি বাদ পড়েন। পরে সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে তার এক খালু মিশনের নামে দুই শতক জমি দেন এবং সেটি তার নামে নিবন্ধন করে দেন।
মিশনের বড় ভাই শৈলেন আচার্য ওরফে ভোলা আচার্য বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পর গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাদের বাড়িতে এসে পরিবারের তথ্য নিয়ে যান। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলে মিশনের নিয়োগ আটকে যায়। বিষয়টি নিয়ে মিশন ঢাকায় শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেছেন।
মিশন বলেন, নিয়োগের আবেদন ফরমে বর্তমান ও স্থায়ী- দুই ঠিকানাতেই কলাবাগানের ঠিকানা দিয়েছেন। তার নামে আসা সব চিঠিপত্রও ওই ঠিকানায় পৌঁছায়। তাহলে ঠিকানা যাচাইয়ে সমস্যা হলো কেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মিশনের পরিবার চার দশকের বেশি সময় ধরে কলাবাগান এলাকায় বসবাস করছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল মাবুদ বলেন, তারা পরিবারটিকে ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে চেনেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করতে দেখেছেন।
মিশনের নানী সুবর্ণা বিশ্বাস জানান, স্বাধীনতার কয়েক বছর পর তারা পরিবার নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় এসে ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। ১৯৮৫ সালে ময়নার বিয়ে হয়। পরে তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর মানুষের বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের বড় করেছেন ময়না।
পরিবার জানায়, মিশন ঝিনাইদহের কাঞ্চননগর স্কুল থেকে ২০১০ সালে বাণিজ্য বিভাগে এসএসসি, শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে স্থায়ী ঠিকানার অস্তিত্বের মিল পাওয়া যায়নি। এ কারণে মিশনের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৭৬ জনের মধ্যে ১৭৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনের একজন মিশন আচার্য- ঠিকানা জটিলতায় তার নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। অন্যজনের নিয়োগ মামলা সংক্রান্ত কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে।
- বিষয় :
- প্রাথমিক শিক্ষক
- ঝিনাইদহ