ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

শিবিরের অভিযোগের বিষয়ে উপযুক্ত প্রমাণ চাইলেন আম্মার

শিবিরের অভিযোগের বিষয়ে উপযুক্ত প্রমাণ চাইলেন আম্মার
×
×

সালাহউদ্দিন আম্মার

 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৩১ | আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ ছিলেন। ল্যাপটপ চুরি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদে বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়মসহ কয়েকটি অভিযোগে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে তাঁর পদ স্থগিত করে শিবির। অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেয় শিবির।

সালাউদ্দিন আম্মার বলছেন, শিবির যখন পরিচয় দিতে ভয় পেত, ভয়ে দাড়ি সেভ করে মোচ রেখে নিজেদের বাম পরিচয় দিত, তখন তিনি শিবিরের অফিসিয়াল গানে অভিনয় করেছেন।  এ ছাড়া শিবিরের আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে অভিযোগের উপযুক্ত প্রমাণ দাবি করেছেন তিনি। 

গত ৩১ জুলাই শিবিরের সব পর্যায়ের সদস্যদের আম্মারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়ে নেতাদের একটি চিঠি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিবির শাখার সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। গত বুধবার রাতে সমকালকে চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেন শিবিরের ২০২৫ মেয়াদের কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক আহাম্মেদ মুন্সী ও বর্তমান কমিটির দুই দায়িত্বশীল নেতা।

এদিকে বুধবার বিগত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জামায়াত প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেন। এই অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার জন্য জামায়াত নেতাকে অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি সম্মতি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন আম্মার। তবে তাঁর এই দাবিকে অবান্তর দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবির। সংগঠন ও রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ দাবি করেন, সালাহউদ্দিন আম্মার এস এম খালিদুজ্জামানের কাছে থেকে শিবির পরিচয় দিয়ে একাধিকবার আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। 

শিবির ও রাকসু ভিপির এই বক্তব্যের পরে দুই মাস আগের চিঠিটি সামনে আসে। ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবির সভাপতির সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়, নৈতিক স্খলন, ‘মৌলিক ইবাদত’ পালনে উদাসীনতা, অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে সংগঠনের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে তাঁর সাথি পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে আম্মারের সাথি পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যা বললেন আম্মার
তবে এই চিঠির প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকে এক পোস্টে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। 

শিবির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আম্মার দাবি করেন, ‘ক্যাম্পাসে রাবি শিবিরের বর্তমান সভাপতিসহ অনেক দায়িত্বশীল নেতা যখন শিবির পরিচয় দেওয়ার ভয়ে দাড়ি সেভ করে নিজেরে বাম পরিচয় দিতো, তখন শিবিরের অফিসিয়াল গানে অভিনয় করেছি আমি।’

এই চিঠির প্রতিক্রিয়ায় আম্মার বলেন, ‘শিবির যে পেপার সামনে আনতেছে এটা তাদের নিজেদের হাতের, তারা চাইলে এটা বানাতে পারে। আমি তাদের কতটুকু গুরুত্ব দিতেছি এটাই ফ্যাক্ট।’

অভিযোগের বিষয়ে আম্মার বলেন, ‘আমি আজ পর্যন্ত কোনোদিন আনীত অভিযোগগুলোর কোনোটার সাথেই সম্পৃক্ত না।’

আরও পড়ুন

×