ভবনের পাইলিংয়ের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু
ছবি- সমকাল
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৩২
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাততলা ভবনের পাইলিংয়ের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শান্ত মিয়া (১৮) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গোধূলি সিটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শান্ত মিয়া ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার হারুয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। আহতরা হলেন একই এলাকার মৃত আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া (৩৫) ও আবুল মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়া (২০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোধূলি সিটি এলাকায় আরিফুল ইসলাম সেন্টুর সাততলা ভবনের পাইলিংয়ের কাজ প্রায় ২০ দিন ধরে চলছিল। শুক্রবার সকালে ক্রেনের সাহায্যে প্রায় ৭০ ফুট লম্বা লোহার খাঁচা গর্তে ঢোকানোর সময় ক্রেনের হুক ছিঁড়ে যায়। এতে খাঁচাটি পাশের বিদ্যুতের উচ্চক্ষমতার (এইচটি) লাইনে পড়ে বিদ্যুতায়িত হয়। এ সময় তিন শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মালিকপক্ষ ও অন্য শ্রমিকরা আহতদের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক উম্মে হাবিবা জুঁই শান্ত মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সোহেল ও মিন্টুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসান মিয়া জানান, সকালে পাইলিংয়ের কাজ দেখার সময় তিনি দেখতে পান, লোহার খাঁচাটি গর্তে নামানোর সময় পাশের বিদ্যুৎ লাইনে পড়ে যায়। এতে তিন শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
ভবনের মালিক আরিফুল ইসলাম সেন্টু বলেন, ক্রেনের হুক ছিঁড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকরা সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছিলেন। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, পাইলিংয়ের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক শ্রমিক মারা গেছেন। হাসপাতাল থেকে মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত