ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে বিরোধ

আশুলিয়ায় শ্রমিক দলের দুই নেতার বাসায় ভাঙচুর ও গুলি

আশুলিয়ায় শ্রমিক দলের দুই নেতার বাসায় ভাঙচুর ও গুলি
×
×

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:১০

সাভারের আশুলিয়ায় ইন্টারনেট ব্যবসা ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুই শ্রমিক দল নেতার বাসায় ভাঙচুর ও গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়ার কাঁঠালতলা শ্রমিক দল নেতা রবিউল ইসলামের বাসায় ও চিত্রাশাইলে শ্রমিক দল নেতা সাঈদ হাসান মিঠুর বাসায় পৃথকভাবে এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

এসব হামলার ঘটনায় ইয়ারপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি সাঈদ হাসান মিঠুসহ আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

ঘটনা দুটি হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মামলা হয়েছে একটির। শুক্রবার দুপুরে শ্রমিক দল নেতা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল জব্বার নামে একজন আটক করা হয়েছে। 

বাসায় হামলা
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, পূর্ব বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের বাসায় হামলা চালায় একদল ব্যক্তি। এ সময় তারা হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর বাসায় গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর করে। তাঁকে না পেয়ে তাঁর বাসার সিঁড়ির নিচে হামিম নামে এক কর্মচারীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘হাবিব ও হাসান বাহিনীর লোকজন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাসায় গুলি চালায় ও ভাঙচুর করে। আমাকে না পেয়ে আমার কর্মচারী হামিমকে কুপিয়ে জখম করে। আমি মাদকের বিরুদ্ধে মিছিল করায় তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালিয়েছে।’

ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. হাবিব বলেন, ‘এই হামলার সঙ্গে আমি কোনোভাবে জড়িত নই; বরং তারা আমার দুই ছেলেকে মারধর করেছে। আমি দূরে অবস্থান করায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখতেও পারিনি। আমি যদি সেখানে গিয়ে থাকি, কেউ যদি তা প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমার বিরুদ্ধে যে শাস্তি দেওয়া হবে, আমি তা মাথা পেতে নেব।’

শ্রমিক দল নেতা আহত
অন্যদিকে ইয়ারপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি সাঈদ হাসান মিঠুকে মাথা ও বাঁ হাতে কুপিয়ে এবং ডান হাতে গুলি করে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের সাইরেন শুনে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে সাঈদ হাসান মিঠুর ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে গুলির কোনো ঘটনা ঘটেনি। দুটি হামলার ঘটনা ঘটলেও একটি ঘটনায় রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×