সীতাকুণ্ড থানার সামনেই পুলিশকে মারধর যুবদল নেতার, পরে বহিষ্কার
ফাইল ছবি
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৩৯
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে থানার সামনেই গত বৃহস্পতিবার রাতে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর শুক্রবার চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ইসমাইল হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে সীতাকুণ্ড থানা এলাকায় গিয়েছিলেন ইসমাইল। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় যুবদলের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন। যুবদল নেতা তাঁর গাড়িটি থানা ফটকের সামনে পার্ক করেন। এরপর তিনি সেখান থেকে চলে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর সেখানে ফেরেন।
ইসমাইল ফেরার পর থানার ফটকের সামনে কেন গাড়ি পার্ক করা হয়েছে, তা জানতে চান থানার গাড়িচালক কনস্টেবল মো. শফিক। এ সময় শফিক পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত ছিলেন না। গাড়ি কেন থানার সামনে রাখা হয়েছে– এ কথা জিজ্ঞাসা করতেই ইসমাইল কনস্টেবল শফিকের ওপর চড়াও হন। পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে মারধর করা হয়। এরপর থানায় থাকা পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা ইসমাইলকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
ইসমাইলকে আটক করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হোন। এরপর থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমল কদর ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহবুদ্দিন রাজুর নেতৃত্বে কয়েকজন থানার ভেতরে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেন। চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এ বৈঠকের পর বিএনপি নেতাদের জিম্মায় ইসমাইলকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইসমাইল হোসেনকে বহিষ্কার করে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার সুস্পষ্ট অভিযোগে ইসমাইলকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, থানার সামনে গাড়ি রাখা নিয়ে কনস্টেবল গাড়িচালক মো. শফিককে মারধর করলে তিনি আহত হন। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ইসমাইল হোসেনকে আটক করে হাজতে রাখা হয়। রাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইসমাইলকে দলের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের জিম্মায় দিয়ে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে ইসমাইল হোসেনকে একাধিকবার মোবাইলে কল দিলেও তিনি ধরেননি। তবে সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমল কদর বলেন, সামান্য কথাকাটাকাটির জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে। রাত ১টার দিকে থানা হাজত থেকে তাঁকে ছাড়িয়ে আনা হয়।