ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে রাজপথে শিক্ষার্থীরা

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে রাজপথে শিক্ষার্থীরা
×
×

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে দ্বৈত শাসন থেকে মুক্ত করে সামর্থ্য অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণার দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছেন এর শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, দাবি আদায় করে তবেই ঘরে ফিরবেন সবাই।

বিশাল সীমানা প্রাচীর পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে দৃষ্টিনন্দন সব ভবন। বুয়েটের আদলে নির্মিত তিনটি ভবনে রয়েছে একাডেমিক, প্রশাসনিক, লাইব্রেরি, একাধিক আবাসিক হল ও শিক্ষকদের আবাসন ব্যবস্থা।

সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার সামর্থ্য জানান দিলেও এর ভেতরে রয়েছে সংকট আর জটিলতা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর পরিপাটি কোটি টাকার চকচকে পরীক্ষাগারে সরঞ্জাম সবই আছে। সেই শুধু তালা খোলার টেকনিশিয়ান। বিশাল লাইব্রেরি সাজানো থাকলেও বইগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক অভিভাবক নেই। কোথাও সংকট থাকলে সে নিয়ে কথা বলার মানুষটিও নেই। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠান চলছে পুরোপুরি ধার করা ও খণ্ডকালীন শিক্ষকে। এমনকি প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পার হয়ে গেলেও অর্ধেকের বেশি শিক্ষকের পদ রাখা হয়েছে ফাঁকা। 
২০০৫ সালে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় করার দূরদর্শী লক্ষ্য নিয়ে সিলেটের টিলাগড় আলুরতল এলাকায় বিভাগের এই একমাত্র প্রকৌশল কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আওয়ামী সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় করার তাগিদ দিয়েছিলেন। কিন্তু এম সাইফুর রহমান এটি করায় তিনি আর সেটার যত্ন নেননি।

পরবর্তী সময়ে বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আশ্বাসের চাদরে ঢাকা পড়ে সেই প্রতিশ্রুতিও। 
এরপর ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট শিক্ষা উপদেষ্টার আদেশে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় কলেজটিকে পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখনও জারি হয়নি কাঙ্ক্ষিত প্রজ্ঞাপন।

বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধীনে এর একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ রয়ে গেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিটিই) হাতে। এই দ্বৈত শাসনের টানাপোড়েনে দিন দিন পিষ্ট হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ গোটা প্রতিষ্ঠান।
ডিটিই-র এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্তি এবং শাবিপ্রবির সঙ্গে অঙ্গীভূত করে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, সাস্ট (আইইটি সাস্ট) হিসেবে চালুর দাবিতে রাজপথে নেমেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
অবকাঠামো পূর্ণাঙ্গ হলেও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও জনবল সংকট এখন চরমে। ৭০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৫০টি পদই শূন্য। কলেজে অধ্যাপকের পদ তিনটি থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত একজন শিক্ষককেও এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

সহযোগী অধ্যাপকের আটটি পদের মধ্যে আছেন মাত্র দুজন। সহকারী অধ্যাপকের ১৫টি পদের মধ্যে সাতজন এবং প্রভাষকের ১৬টি পদের মধ্যে মাত্র আটজন কর্মরত। ফলে ৪৪টি শিক্ষক পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবস্থা আরও করুণ। 
সম্প্রতি সরেজমিন ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও লাইব্রেরিয়ানের পদ শূন্য থাকায় কোটি টাকার অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতিতে ধুলোর আস্তরণ পড়েছে, অনেক মূল্যবান সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় নিত্যদিন নগরীতে আসা-যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। নির্জন টিলা পথের যাতায়াতে প্রায়ই ছিনতাইকারীর কবলে পড়ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
কলেজের শিক্ষার্থী আহমেদ সাবিত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষক না থাকাটাই প্রধান সমস্যা। বাইরে থেকে অতিথি শিক্ষকরা এসে মাঝেমধ্যে ক্লাস নেন, তবে তারা নিয়মিত নন। ফলে একটি সেমিস্টার শেষ হতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেড়-দুই গুণ বেশি সময় লেগে যায়। ল্যাব ও লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারেন না, যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। 
অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান লোকবল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, লোকবল সংকটের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। শাবিপ্রবির শিক্ষকরা এসে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। এর বাইরে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। 
এ ব্যাপারে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তারা বৈঠক করেছেন। দাবি পযার্য়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে। এখন নতুন নতুন দাবি উত্থাপন করছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা করছি।

আরও পড়ুন

×