ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কটিয়াদীতে ৪ পরিবারের ৫ শিশু বিক্রির অভিযোগ

কটিয়াদীতে ৪ পরিবারের ৫ শিশু বিক্রির অভিযোগ
×
×

ছবি: গুগল ম্যাপ

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৪৮

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চার পরিবারের পাঁচ শিশুসন্তানকে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গ্রামের মাদকাসক্ত কয়েকটি পরিবার নেশার টাকা জোগাড় করতে নিজেদের সন্তান বিক্রি করে দিচ্ছে। চার পরিবারের পাঁচটি শিশুকে পৃথক সময়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, দুলাল মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী ফারজানার নবজাতক ছেলেসন্তানকে গত ২ সেপ্টেম্বর ৬০ হাজার টাকায়, জজ মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের দুই স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া দুটি শিশুকে ১ লাখ ৫০ হাজার ও ২০ হাজার টাকায়, আসাদ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন তার সন্তানকে ৭৭ হাজার টাকায় এবং মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আসাদ মিয়া তার সন্তানকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, যাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল, তারা আবার বেশি টাকার বিনিময়ে এসব শিশুকে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে এসব শিশুর বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চরপুক্ষিয়া গ্রামের জয়নাল মিয়া, বকুল মিয়া, গ্রাম পুলিশ দুলাল মিয়া ও নুরুন্নাহারসহ বেশ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বর্তমানে গ্রামে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদকাসক্ত মা-বাবা টাকার বিনিময়ে নিজেদের সন্তান বিক্রি করে সেই টাকায় মাদক সেবন করছেন। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না, পাছে তাদের ছোট সন্তানদেরও বিক্রি করে দেওয়া হয়।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের ছোবল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদক সেবনের টাকার জন্য পাঁচটি শিশু বিক্রি করে দেওয়ার কথা আমি শুনেছি। ইউপি সদস্য ও প্রশাসনের সহায়তায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আমি কাজ করব।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশু বিক্রির অভিযোগ এনে স্ত্রী ফারজানা ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে গত ৬ সেপ্টেম্বর কটিয়াদী মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেছিলেন জাকির হোসেন। তবে ফারজানা সন্তান বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করেই শিশুটিকে দত্তক দেওয়া হয়েছে। পরে জাকির তার অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নেন। 

এদিকে সাদ্দামের তৃতীয় স্ত্রী সোহানার প্রতিবেশীরা জানান, সাদ্দাম গত এক দশকে তিনটি বিয়ে করেছেন এবং তিনি মাদকাসক্ত। প্রথম স্ত্রীর মেয়েকে ছয় বছর আগে অন্যের কাছে দিয়ে দিয়েছিলেন।

ছয় মাস আগে সাদ্দাম-সোহানা দম্পতি তাদের সন্তান তালহাকেও বিক্রি করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোহানার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের জাকির হোসেন তার স্ত্রী ফারজানা ও স্বজনদের বিরুদ্ধে সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। তবে পরে জাকির হোসেন ওই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।

আরও পড়ুন

×