মিটার চুরি করে বিকাশে টাকা আদায়, সহযোগীসহ ‘মিটার সবুজ’ গ্রেপ্তার
ছবি: সমকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৫০
শিল্পাঞ্চল সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে বিকাশে টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, টাকা আদায়ের পর তারা মিটার ফেরত দিত।
একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নজরে নেয় শিল্প পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে এ চক্রের মূল হোতা সবুজ মিয়া ওরফে ‘মিটার সবুজ’ (২৫) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল শুক্রবার মিটার চোর চক্রটিকে ধরতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার ঘোড়াপীর মাজারসংলগ্ন মানিকগঞ্জ বুক হাউসের সামনে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা সবুজ মিয়া ও মারুফ মোল্লাকে থামার সংকেত দেওয়া হলে তারা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন এবং মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। পরে পুলিশ তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি হেক্সিং ব্র্যান্ডের পল্লী বিদ্যুতের মিটার, দুটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন এবং একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
শনিবার দুপুরে শিল্প পুলিশ-১ এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী থানার পাথরাইল গ্রামের কাইয়ুম আলীর ছেলে মো. সবুজ মিয়া ওরফে ‘মিটার সবুজ’ (২৫) এবং একই উপজেলার রেহাই পুকুরিয়া গ্রামের লিটন মোল্লার ছেলে মো. মারুফ মোল্লা (৩৫)।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্প পুলিশ জানায়, গত কয়েক মাস ধরে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। মিটার চুরির পর সেটি ঘটনাস্থলের আশপাশে লুকিয়ে রেখে সেখানে পলিথিনে মোড়ানো চিরকুটে একটি বিকাশ নম্বর লিখে রেখে যেত তারা। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে দর-কষাকষির মাধ্যমে বিকাশে টাকা আদায় করে মিটার ফেরত দেওয়া হতো।
পুলিশ আরও জানায়, গত ৫ আগস্ট রাত ২টা ২৪ মিনিটের দিকে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকায় ‘দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড’ কারখানার ১ নম্বর গেটের সামনে থেকে পল্লী বিদ্যুতের একটি মিটার চুরি হয়। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় মামলা দায়ের করা হলে ছায়াতদন্তে নেমে শিল্প পুলিশ-১ তথ্যপ্রযুক্তি ও সোর্সের মাধ্যমে চোর চক্রটির সদস্যদের শনাক্তে কাজ শুরু করে।
শিল্প পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ মিয়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫০-২০০টি মিটার এবং মারুফ মোল্লা ৬০-৭০টি মিটার চুরির কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ও কামারখন্দ, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও মির্জাপুর থানায় চুরি, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার মারুফ মোল্লার বিরুদ্ধে আশুলিয়া, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও মির্জাপুর, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, বেলকুচি ও কামারখন্দ এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ও সিংগাইর থানায় চুরি, দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে।
তবে তাদের দেওয়া তথ্য ও চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের পাশাপাশি মিটার চুরির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্প পুলিশ-১–এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মাহবুবুল হক সজীব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) সৈয়দ ফয়ছল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, লজিস্টিকস অ্যান্ড ট্রেনিং) মো. তোফাজ্জল হোসেন এবং সহকারী পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- সাভার
- গ্রেপ্তার
- মিটার চুরি