ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

কালীগঙ্গায় জমজমাট নৌকাবাইচ

কালীগঙ্গায় জমজমাট নৌকাবাইচ
×
×

মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীতে শনিবার নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয় সমকাল

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানিকগঞ্জ কালীগঙ্গা নদীতে উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচ হয়েছে। গতকাল শনিবার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় কুড়িগ্রামের রৌমারী, টাঙ্গাইলের নাগরপুর, পাবনার সাঁথিয়া ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার চার ক্যাটাগরির ২২টি নৌকা। নৌকাবাইচে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

প্রতিযোগী নৌকাগুলোর মধ্যে খেল্লা-গয়ইটা ১০টি, ঘাসি-ছিপা ৫টি, ছান্দি ৪টি ও পানসি ৩টি। এতে আরও অংশ নেয় ৭০ ও ৮০ হাত দীর্ঘ দুটি কলাগাছের ভেলা।
জেলা বিএনপি আয়োজিত নৌকাবাইচ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য-সচিব মাসুদ পারভেজ জানান, গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় ঘোষণা মঞ্চ থেকে অংশগ্রহণকারী নৌকার প্রতিনিধিদের হাতে টোকেন দেওয়া হয়। দুপুরে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকাবাইচ উদ্বোধন করেন। এরপর বিজয়ীদের মাঝে মোটরসাইকেল ও ফ্রিজসহ বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
খেল্লা নৌকা ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১০০ সিসি মোটরসাইকেল পেয়েছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ‘মায়ের দোয়া’ নৌকা। রানার্সআপ হয়ে ১৬ সিএফটি ফ্রিজ জিতেছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার নৌকা ‘মা-বাবার দোয়া’ নৌকা।

ঘাসি নৌকা ক্যাটাগরিতে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১০০ সিসি মোটরসাইকেল পেয়েছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ‘বাইমাইল এক্সপ্রেস’ এবং ‘কালাম সিকদার এক্সপ্রেস’।
ছান্দি নৌকা ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল পেয়েছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার নৌকা ‘গায়ান বাড়ি’ নৌকা। রানার্সআপ হয়ে ১৬ সিএফটি ফ্রিজ জিতেছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নৌকা ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’।

পানসি নৌকা ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল পেয়েছে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ‘জাগীর জনতা এক্সপ্রেস’। রানার্সআপ হয়ে ১৬ সিএফটি ফ্রিজ জিতেছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নৌকা ‘আজম ব্রাদার্স’। এ ছাড়া নৌকাবাইচে অংশগ্রহণকারী ৫টি নৌকাকে ১১ সিএফটি ফ্রিজ এবং অন্য ৭টি নৌকার প্রতিনিধিকে ৮ সিএফটি ফ্রিজ দেওয়া হয়েছে। যেমন খুশি তেমন সাজো নৌকা ও ব্যক্তির জন্য দেওয়া হয় টিভি, প্রেসার কুকার, রাইস কুকার।
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, নৌকাবাইচ আমাদের গ্রামবাংলার প্রাণ। আমরা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ করি এবং এই ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিকে ধরে রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। 
ঢাক-ঢোলের তালে মাঝি-মাল্লাদের বৈঠার টানে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। নদীপারে বসে বিভিন্ন দেশীয় বাহারি খাবার ও খেলনার দোকান।
দর্শনার্থী রানু বেগম জানান, নৌকাবাইচ দেখতে মেয়ে ও মেয়ের জামাই এসেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নৌকাবাইচ দেখতে দুপুর থেকে নদীর পারে নাতিকে নিয়ে বসে আছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর বাড়ির পাশে নৌকাবাইচ দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে। বিশেষ করে মেয়ের বাড়ির লোকজন তো খুব খুশি।
দর্শক সোহরাব আলী বলেন, ‘নৌকাবাইচ দেখতে বেউথা এলাকায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছি। ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন এলাকায় নৌকাবাইচ দেখতে যেতাম। এখানের আয়োজন অনেক বড়।’

আরও পড়ুন

×