ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

উদ্বোধনের পর তালাবদ্ধ ৩ বছর সেবা মিলছে না ট্রমা সেন্টারে

উদ্বোধনের পর তালাবদ্ধ ৩ বছর সেবা মিলছে না ট্রমা সেন্টারে
×
×

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্ঘটনায় আহত ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ছাতক উপজেলার কৈতক এলাকায় নির্মিত হয় একটি ট্রমা সেন্টার। সরকারের প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার পর গত তিন বছর ধরে তালাবদ্ধ এই সেন্টার কোনো কাজে আসছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার অভাব এবং অবহেলার কারণে এর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। অথচ অত্যন্ত স্পর্শকাতর মানসিক পরিস্থিতিতে থাকা বিশেষ রোগীদের জন্য এই ট্রমা সেন্টার হতে পারত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অন্যতম মাধ্যম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনার প্রভাব শুধু শারীরিক আঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তি বা তাদের স্বজনরা প্রায়ই গভীর মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যান। অনেক সময় শারীরিক ক্ষত সেরে গেলেও মানসিক ক্ষত থেকে যায়। তাই দুর্ঘটনার পর দ্রুত ও কার্যকর মানসিক চিকিৎসা ও সমর্থন প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জানা যায়, ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয় এই কৈতক ট্রমা সেন্টারের। ২০ শয্যাবিশিষ্ট এই সেন্টারের উদ্বোধন শেষে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তালা। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সেই তালা ঝুলছে সেন্টারের দরজায়। বিশেষ এই সেবাকেন্দ্র কবে নাগাদ চালু হবে এবং কখন থেকে এর সেবাপ্রদান কার্যক্রম নিশ্চিত হবে, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ কিছুই জানেন না।
সূত্র জানায়, উদ্বোধনের পর থেকে ট্রমা সেন্টারটি বন্ধ থাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের বিশেষ সেবা প্রদান অনিশ্চয়তায় ডুবে আছে। এটি চালু করার বিষয়ে চলছে সরকারি দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ ও চিঠি চালাচালি। এরপরেও কোনো অগ্রগতি নেই। যে কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ট্রমা সেন্টারটি জেলার একমাত্র দুর্ঘটনাজনিত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। কৈতক সরকারি হাসপাতালের পাশে নির্মাণ করা হয় ২০ শয্যার ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ট্রমা সেন্টার। আধুনিক ও উন্নতমানের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তৈরি করা হলেও এটি উদ্বোধনের পর চালু করতে না পারায় অনেকে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 

সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কটি থেকে আধুনিক ভবন দেখা গেলেও ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। কাছে গেলে মনে হয় যেন পরিত্যক্ত কোনো স্থাপনায় তালা দিয়ে রাখা হছে। মূল ভবনের ভেতরে লতাপাতা, মাকড়সার জাল আর অবহেলার চিহ্ন দেখা গেছে। ভবনে স্থাপন করা ১১টি এসি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হওয়ার পথে। সেন্টারটি খোলা না থাকায় রোগীদের নিতে হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ বা রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে।

তিন বছরের বেশি সময় ধরে এটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাসপাতালটির চিকিৎসা সরঞ্জাম, আসবাব ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই ট্রমা সেন্টারটি চালু হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ৬৮ কিলোমিটারের আগে কোনো ট্রমা সেন্টার না থাকায় কৈতকে স্থাপিত আধুনিক এই স্থাপনা নিয়ে অনেকটাই আশাবাদী ছিলেন ছাতক, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার মানুষ। উদ্বোধনের দীর্ঘ সময় পরেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় হতাশ এই অঞ্চলের মানুষ। দ্রুত জনবল নিয়োগ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করে ট্রমা সেন্টার চালুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন আহত ও পাঁচজন নিহত হন, ফেব্রুয়ারিতে ১০ জন আহত ও একজন নিহত, মার্চে ১১ জন আহত ও দুজন নিহত, এপ্রিলে ১৬ জন আহত, মে মাসে ৯ জন আহত ও তিনজন নিহত, জুনে ১৮ জন আহত ও একজন নিহত, জুলাইয়ে ২৪ জন আহত ও দুজন নিহত, আগস্টে ৩৪ জন আহত, দুজন নিহত এবং সেপ্টেম্বর মাসে চারজন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। 
উপজেলার ধারণবাজার এলাকায় অবস্থিত জয়কলস হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রপ্ত উপপরিদর্শক মো.জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটের লামাকাজি থেকে সুনামগঞ্জের হাসন রাজা তোরণ পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার এলাকায় গত ৯ মাসে মোট আহত ১৩৩ জন আহত এবং ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস ও ট্রাক দুর্ঘটনা ঘটেছে। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, মূলত জনবল সংকটের কারণে ট্রমা সেন্টারটি চালু করা যাচ্ছে না। এই সেবাকেন্দ্রটি চালু করা অত্যন্ত জরুরি। ট্রমা সেন্টারের বর্তমান সার্বিক অবস্থা ও জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত চিঠি দিয়ে জানানো হচ্ছে।
 

আরও পড়ুন

×