নিপীড়নে পালানো কিশোরীকে তুলে নিয়ে ফের নির্যাতন
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৫৫ | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফুপার বাসায় আটকে রেখে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানো হতো তাকে। সম্প্রতি পালিয়ে যাওয়ার পর বাজার থেকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ সময় মারধর এবং গরম চামচ ও খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকার অভিযোগ করে ওই কিশোরী।
স্থানীয় বাসিন্দা, কিশোরীর স্বজন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরীকে তার পরিবার দূরসম্পর্কের ফুপার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠায়। সেখানে ফুপাতো বোন ও তাঁর স্বামী এবং ফুপাতো আরেক ভাইবোন মিলে তাকে জোর করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করেন। এতে রাজি না হলে তাকে বিভিন্ন সময় মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হতো। ১০-১২ দিন আগে ওই কিশোরী পালিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসে। গত বুধবার সন্ধ্যায় বাজারে গেলে তাকে আবার জোর করে তুলে ফুপার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে মুখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়।
কিশোরীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাকে গরম চামচ ও খুন্তি দিয়ে দুই হাতের কনুইয়ে এবং পিঠে ছ্যাঁকা দেন। এ ছাড়া ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে তার ডান পায়েও আঘাত করা হয়। তার কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের কয়েকজন ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করেন।
এদিকে, গত শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য কিশোরীর দুই চাচা অভিযুক্তদের সঙ্গে বসেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। সেখানে ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসার জন্য কিশোরীকে ছয় হাজার টাকা দেওয়া হলেও বাকি টাকা তার দুই চাচা নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বাসাবাড়িতে কাজের কথা বলে কিশোরীকে নিয়ে নির্যাতন ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করা এবং পরে বাজার থেকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে মারধর ও গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার কথা কিশোরী তাদের জানিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বজনরা বিষয়টি ৫০ হাজার টাকায় মীমাংসা করে কিশোরীকে মাত্র ছয় হাজার টাকা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় লোকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ছিলেন। তবে কিশোরী ও তার পরিবারকে সেখানে আসতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া অভিযুক্তদেরও এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
মীমাংসা ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কিশোরীর এক চাচা বলেন, ‘বিষয়টি আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ঘটেছে। আমরা নিজেরা বসে বিষয়টি শেষ করে দিয়েছি।’
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার কোনো অভিযোগ করতে চাচ্ছে না।
- বিষয় :
- নির্যাতন