ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করায় যুবককে পিটুনি

শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করায় যুবককে পিটুনি
×
×

প্রতীকী ছবি

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৫৩ | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:০৭

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে কবির শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে পিটুনি দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার সকালে উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের কুশলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্বজনেরা গুরুতর অবস্থায় কবিরকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু) হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

কবির শেখের বাড়ি পাশের বিরামকান্দি গ্রামে। ওই শিক্ষিকাকে তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন বলে জানা গেছে। আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে আবারও শিক্ষিকার পথ আটকে উত্ত্যক্ত করেন। এ সময় শিক্ষিকার আত্মীয়স্বজনেরা কবিরকে মারধর করে ফেলে যান। 

সংবাদ পেয়ে স্বজনেরা কবিরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন। কবির শেখের ভাতিজি জোসনা বেগম বলেন, ‘আমার চাচার একটু মাথায় সমস্যা আছে। সে আগে অটো চালাইতো। এই অটোতে যাওয়া-আসার সময় ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর থেকে তিনি (কবির) ওই শিক্ষিকাকে বিয়ে করার জন্য পাগলামি শুরু করেন। তবে তাঁকে এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি।’

শিক্ষিকার ভাষ্য, ‘আমি স্কুলে যাওয়া আসার পথে কবির প্রায়ই আমাকে উত্ত্যক্ত করতো। পথরোধ করতো। মাঝে মাঝে স্কুলে যাওয়ার পথে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিতো। আমি এলাকাবাসীকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। ওর উত্ত্যক্তের কারণে অনেক সময় ভয়ে ছুটি নিতাম।’ উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসে মাস চারেক আগে আবেদন করেও বিষয়টির সুরাহা পাননি তিনি। তবে আজ কবিরকে কে মারধর করেছেন, তা জানেন না বলেও মন্তব্য করেন। 

কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুকুমার কুন্ড বলেন, এ বিষয়ে কোনো পক্ষের লোকজনই লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত ওই শিক্ষিকার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘পরে ইউএনও স্যারকে নিয়ে কবির ও তাঁর পরিবারের লোকজনকে ডেকে আনা হয়েছিল। তারা ওই শিক্ষিকাকে আর উত্ত্যক্ত করবে না বলে কথা দিয়েছিলেন।’

আরও পড়ুন

×