ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মাদকবিরোধী অভিযান দেখে নদীতে ঝাঁপ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ উদ্ধার

মাদকবিরোধী অভিযান দেখে নদীতে ঝাঁপ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ উদ্ধার
×
×

সৈয়দ সাদমান জয়

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:১৮

শেরপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দলকে দেখে ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সৈয়দ সাদমান জয়ের (২২) লাশ ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাতশালা ইউনিয়নের ভাটারাঘাট এলাকায় মৃগী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।

নিহত জয় কুড়িগ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ ওহেদুন্নী ওরফে মাখন মিয়ার ছেলে। তার মা শাহানাজ পারভীন শেরপুর সদর উপজেলার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। কর্মসূত্রে তিনি শেরপুর শহরের সিংপাড়া মহল্লায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ভাতশালা ইউনিয়নের ভাটারাঘাট এলাকায় মৃগী নদীর তীরে বিনোদনকেন্দ্রে বেড়াতে যান জয়। সেখানে তারা আড্ডা দেওয়ার সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় জয় পাশের মৃগী নদীতে ঝাঁপ দেন। অভিযান শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা জয়ের এক বন্ধুকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠান বলে স্থানীয়রা জানান। পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এদিকে জয় নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত নদীতে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় জামালপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মৃগী নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাটারাঘাট এলাকা থেকে জয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জয়ের প্রতিবেশীরা জানান, জয় স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

জয়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের শেরপুরের এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে শেরপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ও বর্তমানে ময়মনসিংহ কার্যালয়ের কর্মকর্তা কাউসার রনি বলেন, ওই অভিযানে তিনি ছিলেন না। সাব-ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান অভিযানে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকজন তাকে গ্রেপ্তার করেনি, আবার হেফাজত থেকে পালিয়েও যাননি। কাউকে গ্রেপ্তার করতে গেলে সেখানে যদি ৩০ জন দৌড়ে পালায়, তখন আমাদের কী করার আছে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লোকজনের হেফাজতে থেকে কেউ দৌড়ে পালালে সেটি আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাকে ধরাও হয়নি, গ্রেপ্তারও করা হয়নি। তার সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্যও ছিল না।’

আরও পড়ুন

×