ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

সড়কে নিম্নমানের খোয়া, নির্দেশনাও মানছেন না ঠিকাদার

সড়কে নিম্নমানের খোয়া, নির্দেশনাও মানছেন না ঠিকাদার
×

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বুড়াইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার সড়কে নিম্নমানের খোয়া। গতকাল রোববার তোলা। ছবি: সমকাল

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৯

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার একটি সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। প্রথম দফায় তাদের মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার পরও তারা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দরপত্রে বর্ণিত শর্ত অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার সরেজমিন এসব তথ্য জানা গেছে। পৌরসভা সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘কভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্টের (এলজিসিআরআরপি)’ আওতায় পৌরসভার ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়াইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকা থেকে বাঁকাইল ঈদগাহ পর্যন্ত এক হাজার ৪৮ মিটার দীর্ঘ ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ফরিদপুর সদরের কোমরপুর এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স গ্রিন কনস্ট্রাকশন।

নিয়ম অনুযায়ী উন্নয়নকাজের জায়গায় প্রকল্পের নাম, প্রাক্কলিত ব্যয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও কাজের মেয়াদ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড প্রদর্শনের কথা থাকলেও গতকাল সড়কের আশপাশে এসব তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড চোখে পড়েনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করা ও যথাযথ তদারকির ঘাটতির সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছামতো নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছে। তারা নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের প্রতিবাদ করলেও কেউ কথা শুনছেন না।

পৌরসভা সূত্রের ভাষ্য, সড়কের ডব্লিউবিএম লেয়ার বা ভিত্তি তৈরির সময় থেকে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের বিষয়টি তাদের নজরে আসে। গত ৮ জুলাই পৌরসভা থেকে সরকারি স্মারকের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প এলাকা থেকে মানহীন নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তা উপেক্ষা করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ চালিয়ে যায়।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর রিজিওনাল মিউনিসিপ্যাল সাপোর্ট ইউনিটের (আরএমএসইউ)  রিজিওনাল সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার বিমল দাশ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে। এই প্রকৌশলী নিম্নমানের খোয়া দ্রুত অপসারণ ও প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী নির্মাণকাজের মান নিশ্চিতের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর পাশাপাশি চূড়ান্ত নোটিশ দেয় আলফাডাঙ্গা পৌরসভা। এতে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পুরো সড়ক থেকে নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে মানসম্মত খোয়া দিয়ে কাজ পুনরায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স গ্রিন কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী এস এম কোবাদের ভাষ্য, তারা চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শেষ করবেন। কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করে বুঝে নেবে।

আলফাডাঙ্গা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জাকারিয়া আলম বলেন, সড়কটির কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছিলেন তারা। এ জন্য ঠিকাদারকে বারবার কাজ বন্ধ ও সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা নির্দেশ অমান্য করায় চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আলফাডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা ইউএনও মো. জোবায়ের হাবিব বলেন, ‘পৌরসভার কোনো উন্নয়নকাজে অনিয়মের সুযোগ নেই। মানহীন সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ আগে দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ডেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×