বাড়ি দখল করে তালা সার্জেন্টের
জমিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে মালিককে হুমকি
রাজশাহী চারঘাটের পুলিশ একাডেমি-সংলগ্ন বাড়িটি তালা দিয়ে রেখেছেন এসআই আসিফ আহমেদ। ছবি: সমকাল
চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৫৪
রাজশাহীর চারঘাটে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বসতবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় গত দুই মাস ধরে নিজ বাড়িতে ঢুকতে পারছেন না ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান শামীম। নিজের সম্পত্তিতে প্রবেশের চেষ্টা করলেই তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় থানা, পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও মেলেনি প্রতিকার; বাধ্য হয়ে বর্তমানে শামীম পাশের দুর্গাপুর উপজেলায় তাঁর পুরোনো পৈতৃক ভিটায় জীবনযাপন করছেন।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম আসিফ আহমেদ রবিন। তিনি বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পুলিশ সার্জেন্ট হিসেবে কর্মরত।
ভুক্তভোগী শামীমের অভিযোগ, পুলিশ একাডেমির নিকটবর্তী এবং মহাসড়ক-সংলগ্ন হওয়ায় সরদহ বাজার এলাকার ওই জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য বেশ চড়া। তাই জমিটি আত্মসাৎ করতে প্রভাব ব্যবহার করছেন সার্জেন্ট আসিফ আহমেদ রবিন। ভয়ে প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিরা তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছেন না।
থানায় দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ৩০ বছর আগে সরদহ বাজার এলাকায় বানেশ্বর-ঈশ্বরদী মহাসড়কের পাশে ১২ শতক জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন বোরহানুর রহমান আঙ্গুর। নিঃসন্তান বোরহানুর ২০২৫ সালে মারা যান। এর পর তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম দেবর সাইদুর রহমান শামীমের আশ্রয়ে ছিলেন। শামীমের দাবি, জীবিত থাকা অবস্থায় ভাবি মনোয়ারা বেগম স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির নিজের প্রাপ্ত ৩ দশমিক ১৩ শতক জমি দলিলের মাধ্যমে তাঁর নামে লিখে দেন। গত ২ এপ্রিল মনোয়ারা বেগমের মৃত্যুর পর ভাইয়ের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অংশ ও ভাবির দলিলকৃত জমি বুঝে নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন শামীম।
গত ২ আগস্ট সেই আধাপাকা বাড়িতে হঠাৎ তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। মনোয়ারা বেগমের ভাই আজিজুল ইসলামের ছেলে পুলিশ সার্জেন্ট আসিফ আহমেদ রবিন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে এই তালা দেন বলে অভিযোগ।
বাস্তুচ্যুত হয়ে শামীম জমির আসল দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে চারঘাট মডেল থানা, চারঘাট পৌরসভাসহ বিভিন্ন দপ্তরে আইনি প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। গত ১৯ আগস্ট চারঘাট থানায় উভয় পক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তা শামীমকে তাঁর বৈধ দলিল উপস্থাপনের নির্দেশ দিলে তিনি তাৎক্ষণিক জমা দেন। কিন্তু সার্জেন্ট আসিফ আহমেদ নিজের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা দলিল দেখাতে ব্যর্থ হন।
সেই সময় শামীমের দলিলকে ‘ভুয়া’ দাবি করে তা প্রমাণ করতে সাত দিনের সময় চেয়ে নেন সার্জেন্ট আসিফ। তবে নির্ধারিত সাত দিন পার হয়ে গেলেও তদন্ত কর্মকর্তা ও থানার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে আসিফের পক্ষ থেকে আর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি এবং বাড়ির তালাও খোলা হয়নি। পরবর্তী সময় শামীম নিজের তালাবদ্ধ ঘরে ঢুকতে গেলে আসিফের অনুসারী ও ক্যাডার বাহিনী তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
সরদহ এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে ভাই আজিজুল ইসলাম কিংবা ভাতিজা আসিফের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না। বিপদের দিনে দেবর শামীমই তাঁর যত্ন নিয়েছেন এবং সেই সূত্রে সম্পত্তি দিয়েছেন।
সাইদুর রহমান শামীম বলেন, ‘দুই মাস ধরে ঘরে ঢুকতে পারি না। গেলেই আসিফের লোকজন মেরে ফেলার হুমকি দেয়। থানায় গিয়েও প্রতিকার পেলাম না, আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসিফ আহমেদ রবিন ফোনে জানান, তিনি নিজে তালা লাগাননি, অন্য লোকজন লাগিয়েছে। জমিটি এখন তাঁর দাবি করে বলেন, শামীম তাঁর ফুফুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে জোর করে ভুয়া দলিল করিয়ে নিয়েছিলেন।
চারঘাট মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম জানান, কাগজপত্র যাচাই শেষে সাত দিন পর উভয় পক্ষকে নিয়ে পুনরায় বসার কথা থাকলেও সার্জেন্ট আসিফের পক্ষের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগকারী শামীমাকে দেওয়ানি আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- রাজশাহী