ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

এক মাস আগে ফোনে পরিচয়, পার্কে দেখা করতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী

ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবি

এক মাস আগে ফোনে পরিচয়, পার্কে দেখা করতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী
×

প্রতীকী ছবি

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:১০ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:২৮

নাটোরের লালপুরে প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে এক তরুণী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর প্রেমিকসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই তরুণীর কাছে চাঁদা দাবিরও অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার উপজেলার লালপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রোববার বিকেলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আশিক জামান (২০), তাঁর বন্ধু কাজল ইসলাম (১৯) ও মো. শাকিল ইসলাম বাদলকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়।

লালপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম সোমবার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনই ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আশিক জামানের সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শনিবার বেলা ১২টার দিকে আশিকের সঙ্গে দেখা করতে গোপালপুর রেলগেটে যান তরুণী। সেখান থেকে আশিক ও তাঁর বন্ধু কাজল তাঁকে ইজিবাইকে করে গ্রিনভ্যালী পার্কে নিয়ে যান।

পরে বেলা ৩টার দিকে আশিক ওই তরুণীকে জোর করে তাঁর বন্ধু শাকিলের জোতদৈবকী গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় শাকিল মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে শাকিলও তরুণীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এরপর আশিক ও শাকিলের সহায়তায় কাজলও তাঁকে ধর্ষণ করেন।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, বিকেল ৫টার দিকে মেহেদী নামের এক ব্যক্তি ওই কক্ষে ঢুকে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেন। পরে তিনি তরুণীর কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তাঁর মোবাইল ফোনটি নিয়ে চলে যান মেহেদী। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে রিকশায় করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে প্রথমে পরিবারের কাছে বিষয়টি জানাননি ওই তরুণী। তবে পরদিন রোববার সকাল ১০টার দিকে আশিক ফোন করে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ধারণ করা ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনা জানান তিনি।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে পরিকল্পিতভাবে ওই তরুণীকে ফাঁদে ফেলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে চাঁদাও দাবি করা হয়। তাঁরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর করা মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×