ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

ওয়াসার গাড়িচালক তাজুলের স্ত্রীর নামে জমি-পাঁচতলা বাড়ি, অবৈধ সম্পদ মামলায় দম্পতির কারাদণ্ড

ওয়াসার গাড়িচালক তাজুলের স্ত্রীর নামে জমি-পাঁচতলা বাড়ি, অবৈধ সম্পদ মামলায় দম্পতির কারাদণ্ড
×

মো. তাজুল ইসলাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৫১

চট্টগ্রাম নগরের পশ্চিম শহীদনগর এলাকার তৈয়্যবিয়া হাউজিং সোসাইটিতে পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে খাইরুন নেসা বেগমের। বাড়িটিতে রয়েছে ১৭টি ফ্ল্যাট। গৃহিণী হলেও তার নামে পাওয়া গেছে প্রায় ৬০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ। এ মামলায় তাকে ও তার স্বামী চট্টগ্রাম ওয়াসার গাড়িচালক মো. তাজুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুদকের অভিযোগপত্র ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তাজুল ইসলাম ১৯৮৯ সালে মাসে দুই হাজার টাকা বেতনে চট্টগ্রাম ওয়াসায় গাড়িচালকের সহকারী (হেলপার) হিসেবে চাকরি শুরু করেন। পরে গাড়িচালক হন। চাকরিজীবনে ধাপে ধাপে তার বেতন বেড়ে ৩৫ হাজার টাকা হয়। তিনি ওয়াসা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদকও।

দুদকের তদন্তে বলা হয়, তাজুল ইসলাম তার স্ত্রী ও নিজের নামে ২০০২ সালে নগরের পশ্চিম শহীদনগর এলাকায় তিন শতক জমি কেনেন। পরে সেখানে পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। গৃহিণী খাইরুন নেসার নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও তার নামে জমি ও বাড়ির মালিকানা রাখা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাড়িটির অর্ধেক নির্মাণ ব্যয় ২৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা দেখানো হয়েছিল। তবে দুদকের তদন্তে গণপূর্ত চট্টগ্রামের তিনজন উপপ্রধান প্রকৌশলীর মাধ্যমে নিরপেক্ষ পরিমাপ করানো হয়। এতে নির্মাণ ব্যয় ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

এ ছাড়া খাইরুন নেসার নামে ব্যাংকে নগদ টাকাসহ আরও ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পায় দুদক। সব মিলিয়ে তার নামে ৫৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

আয়কর নথিতে খাইরুন নেসাকে পোলট্রি খামারি হিসেবে দেখানো হলেও তদন্তে তার নামে কোনো পোলট্রি খামারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দুদক জানায়।

দুদকের অভিযোগ, চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, তদবির, পদোন্নতি ও বদলিতে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আয় করেছেন তাজুল ইসলাম। চাকরিজীবনের শুরু থেকেই তিনি এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে তদন্তে উঠে আসে। পরে ওই অর্থ দিয়ে জমি কিনে পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেন।

দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসেন বলেন, নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তাজুল ইসলামকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৩১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮৬ টাকার ৫০ শতাংশ হিসেবে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

তাজুল ইসলামের স্ত্রী খাইরুন নেসা বেগমকেও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আরও পড়ুন

×