ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

সোনাদিয়ার অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদ করবে নৌবাহিনী

সোনাদিয়ার অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদ করবে নৌবাহিনী
×

সোনাদিয়ায় প্যারাবন কেটে তৈরি করা হয়েছে চিংড়ি ঘের। ছবি- সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:১০ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৫৯

মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপের প্যারাবন থেকে অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদে নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এখন অভিযান পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। ‘স্ট্রেনদেনিং ক্যাপাসিটি অব এমওইএফসিসি, ডিওই অ্যান্ড বিএফডি ফর ন্যাচারাল রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইমপ্রুভড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফাহমিদা হক জানান, সোনাদিয়ার অবৈধ দখল উচ্ছেদে নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। গত ৩ আগস্ট প্রস্তাবটি অনুমোদন হয়েছে।

তিনি বলেন, অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদে নৌবাহিনীর প্রায় ৪ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে এ কাজে বরাদ্দ রয়েছে ২ কোটি টাকা। এ বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নৌবাহিনী ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিনের দখল, প্যারাবন উজাড় ও খালে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সোনাদিয়ায় শুধু ঘের উচ্ছেদ করলেই পরিবেশের আগের অবস্থা ফিরবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে পরিবেশবিদদের। তাদের মতে, উচ্ছেদের পাশাপাশি কেটে ফেলা প্যারাবন পুনরুদ্ধার, জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং উচ্ছেদের পর নতুন করে দখল ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও নদী গবেষক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করে বড় আকারের অভিযান হলে তা আগের উদ্যোগগুলোর তুলনায় কার্যকর হতে পারে। তবে অভিযানের পর নজরদারি না থাকলে উচ্ছেদ করা ঘের আবার দখল হয়ে যেতে পারে। তাই বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তদারকি প্রয়োজন।

জানা গেছে, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আট বছরে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সোনাদিয়ায় অন্তত ছয় হাজার একর প্যারাবন কেটে ৫০টি চিংড়িঘের গড়ে তোলা হয়েছে। ২০১৭ সালে ইকোট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সোনাদিয়ার প্রায় নয় হাজার একর বনভূমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) বরাদ্দ দেওয়ার পর প্যারাবন কাটার প্রবণতা বাড়ে। ওই সময় সোনাদিয়ার প্যারাবন রক্ষার আইনগত কর্তৃত্ব হারায় বন বিভাগ।

গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর সোনাদিয়ার ইসিএ ও সংরক্ষিত বনে চিংড়িঘের ও লবণ মাঠ তৈরিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ১০ সরকারি কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশ দেয় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)। বেলার আইনজীবী এস হাসানুল বান্নার পাঠানো লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সোনাদিয়া দ্বীপে প্যারাবন ধ্বংস করে অন্তত ৫০টি চিংড়ি ঘের তৈরি করা হয়েছে। মহেশখালীর ঘটিভাঙ্গা ও বড়ো মহেশখালী মৌজায় তৈরি করা হয়েছে ১৫টি ঘের।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সেক্রেটারি মো. আলমগীর কবির বলেন, সোনাদিয়াকে শুধু অবৈধ ঘেরমুক্ত করলেই হবে না, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। বনভূমি রক্ষা, পুনঃবনায়ন, খাল পুনঃখনন বা বাঁধমুক্ত করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া দরকার।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, সোনাদিয়া দুর্গম এলাকা। নৌযান ছাড়া সেখানে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাই অবৈধ দখল উচ্ছেদে নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্বীপটিকে এবার দখলদারদের হাত থেকে বাঁচানো সহজ হবে।

আরও পড়ুন

×