ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় ৫০ জনের নামে মামলা

কুমিল্লায় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় ৫০ জনের নামে মামলা
×
×

ফাইল ছবি

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:১৪ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:১৬

কুমিল্লার লালমাই উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদ জাবেদসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আদালতে মামলাটি করেন লালমাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী মিয়াজী। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলি অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআই-কুমিল্লাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে— লালমাই উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান মজুমদার, ডা. মহিন উদ্দিন, ইকবাল হোসেন মজুমদার, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মানিক মিয়া, সৌরভ হোসেন, কামাল হোসেন, সেরাজুল হক ওরফে চারু এবং ছাত্রদল নেতা আল আমিন অয়ন ও রাজু আহমেদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে লালমাই উপজেলা যুবদলের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতীকী ধর্মঘট কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে যুবদল আহ্বায়কের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতাকর্মী লাঠি, এসএস পাইপসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে টায়ারে আগুন দেন। পরে তারা বিএনপি কার্যালয়ের তালা ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করেন। কার্যালয়ের পোস্টার, ব্যানার ও নেতাদের ছবিও ভাঙচুর করে রাস্তায় এনে আগুনে পোড়ানো হয়। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মামলার আসামি জাবের আহমেদ জাবেদ জানান, ঘটনার দিন দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেছেন। পুলিশও সেখানে ছিল। পরে কার্যালয়ে কারা হামলা করেছে, তা তিনি জানেন না। হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাদী মোহাম্মদ আলী মিয়াজী বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করে মামলা করা হয়েছে।

আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই-কুমিল্লাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, মামলার আসামিদের অধিকাংশই কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারী। অন্যদিকে, মামলার বাদীপক্ষ কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর অনুসারী। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন

×