স্থায়ী পুনর্বাসন ও নাগরিক অধিকারের দাবিতে উর্দুভাষীদের লংমার্চ
ছবি-সংগৃহীত
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৫৯
আটকেপড়া পাকিস্তানি ক্যাম্পে বসবাসরত উর্দুভাষীদের স্থায়ী পুনর্বাসন, উচ্ছেদ বন্ধ ও পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে নীলফামারীতে লংমার্চ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সোমবার দুপুরে স্ট্র্যান্ডেড পিপলস জেনারেল রিহ্যাবিলিটেশন কমিটির (এসপিজিআরসি) উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের ব্যানারে সৈয়দপুর শহরের ২২টি ক্যাম্প থেকে আসা কয়েকশ নেতাকর্মী ও সাধারণ অধিবাসী সৈয়দপুর থেকে লংমার্চ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নেন। সেখানে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের প্রধান নির্বাহী বরাবর স্মারকলিপি দেন প্রতিনিধিরা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়– উচ্ছেদ হওয়া ক্যাম্পবাসীদের দ্রুত স্থায়ী পুনর্বাসন; বিকল্প বাসস্থান না বানিয়ে নতুন করে কোনো ক্যাম্প উচ্ছেদ বন্ধ; পূর্ণাঙ্গ নাগরিক ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত এবং সার্বিক জানমালের নিরাপত্তা বিধানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
কর্মসূচিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে উর্দুভাষী সম্প্রদায়ের নেতা ওয়াসিম, নাসিম ও মেরাজ বলেন, ‘আইনিভাবে ও ভোটাধিকারের মাধ্যমে আমাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো সুযোগ-সুবিধার মুখ দেখছি না। আমাদের শুধু খাতা-কলমে নামের নাগরিক বানিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু মৌলিক চাহিদা থেকে আমরা বঞ্চিত। এমনকি ক্যাম্পগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা বিনামূল্যে সংযোগ বা সুবিধা চাই না। সাধারণ দেশবাসীর মতো ন্যায্য বিল দিয়েই আলো-বাতাস ব্যবহার করতে চাই। বদলে চাই সম্মান ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা।’
তারা আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে কোনো প্রকার স্থায়ী বিকল্প ব্যবস্থা না করেই ক্যাম্প উচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। উদাহরণ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ থেকে ২৫০টি পরিবারের একটি ক্যাম্প উচ্ছেদের পর তারা খোলা জায়গায় চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছে বলে নেতারা দাবি করেন।
সমাবেশে এসপিজিআরসির জ্যেষ্ঠ নেতা মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমাদের হাতে কেবল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষের মতো বাঁচার মৌলিক অধিকারটুকু দেওয়া হয়নি। এখনও ১০ বাই ১০ ফুটের একেকটি ছোট ও স্যাঁতসেঁতে কক্ষে ১০ থেকে ১২ জন মানুষকে গাদাগাদি করে ঠাসাঠাসি অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। আমরা কারও করুণা চাই না; বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সংবিধানে নিশ্চিত করা আমাদের মৌলিক অধিকার চাই।’