ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

দাওয়াত না করায় মাতবরের ক্ষোভ, বিদ্যালয়ছাড়া ৩০ শিক্ষার্থী

স্কুলে ভবন নির্মাণ উপলক্ষে অনুষ্ঠান

দাওয়াত না করায় মাতবরের ক্ষোভ, বিদ্যালয়ছাড়া ৩০ শিক্ষার্থী
×

চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সদরপুর (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:০৩

স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল এলাকার প্রভাবশালী মাতবরের। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের নিয়ে সভা করে শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করার কথা বলেন তিনি। এরপর থেকে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী চার দিন ধরে বিদ্যালয়ে আসছে না। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে উদ্বোধনের বিষয়টি জানায়। ফলে অনুষ্ঠানে কাউকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ পাননি তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় প্রভাবশালী মাতবর কামরুল হাসান (৪৩)। পরে তিনি স্থানীয় অভিভাবকদের নিয়ে সভা করে শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করার কথা বলেন। এরপর থেকে ওই এলাকার প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

কামরুল হাসান ভাষানচর ইউনিয়নের নছর উদ্দিন খার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মৃত আবুল কালাম ভাষানচর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। 

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক ও ১০৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবন নির্মাণের উদ্বোধনের আগে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকত। কিন্তু গত চার দিন ধরে উপস্থিতি কমে ২৫ থেকে ৩০ জনে নেমে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কামরুল হাসানকে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি ক্ষুব্ধ হন। পরে স্থানীয় অভিভাবকদের নিয়ে সভা করে সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করার কথা বলেন। তাঁর প্রভাবের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না।

পার্শ্ববর্তী চর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভগীরথ সাহা বলেন, ওই বিদ্যালয় থেকে এ পর্যন্ত ২৫ থেকে ২৭ জন শিক্ষার্থী তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে তাঁর বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসেছিল। তবে ছাড়পত্র (টিসি) না থাকায় কাউকে ভর্তি করা হয়নি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, হঠাৎ করে এতসংখ্যক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে না আসায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান বলেন, ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধনের বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানায়। ফলে কাউকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ হয়নি। বিষয়টি তিনি কামরুল হাসানকে বুঝিয়ে বলেছেন। কিন্তু তিনি তা মানেননি। 

প্রধান শিক্ষক বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে কামরুল হাসান স্থানীয় অভিভাবকদের নিয়ে তাঁর বাড়ির পাশের নুর ইসলামের চায়ের দোকানে সভা করে শিক্ষার্থীদের ওই বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুল হাসান বলেন, বিদ্যালয়ে ভালোভাবে পড়াশোনা হয় না– এমন কারণে হয়তো অভিভাবকরা সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে চাইছেন। এলাকার মাতবর হিসেবে তাঁর নাম আসার বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ হয়তো শত্রুতা করে এমন কথা বলছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে না যাওয়ার বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণা নেই।

ভাষানচর ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম কাওসার বলেন, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×