সুন্দরবনে লঞ্চে ডাকাতির চেষ্টা হয়নি, দাবি টোয়াস ও বন বিভাগের
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:০৪
সুন্দরবনের কটকা সংলগ্ন এলাকায় পর্যটকবাহী কোনো লঞ্চ বা জাহাজে হামলা কিংবা ডাকাতির চেষ্টা হয়নি বলে দাবি করেছে বন বিভাগ ও সুন্দরবনের পর্যটক লঞ্চ মালিকদের সংগঠন ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস)। সংগঠনটির অভিযোগ, পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সুন্দরবনের পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কটকায় পর্যটকবাহী লঞ্চে ডাকাতির চেষ্টার খবর প্রকাশের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত শনিবার রাতে কটকা সংলগ্ন এলাকায় বনরক্ষীদের ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পর্যটকবাহী জাহাজে হামলা বা ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে–এমন সংবাদ প্রকাশ করে কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যম। তবে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সোমবার বিকেলে মোংলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টোয়াসের সাধারণ সম্পাদক শাহ জামাল খান পপুল এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, টোয়াসের নিবন্ধিত কোনো পর্যটকবাহী নৌযানে ডাকাতি বা হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটেনি। এ ধরনের সংবাদ সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করছে।
পপুল আরও বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য। প্রতিবছর দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক সুন্দরবনে ভ্রমণে আসেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পর্যটন ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে। তাই কোনো ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে অতিরঞ্জিত বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, মূলত একদল দুর্বৃত্ত স্থানীয় জেলেদের ওপর হামলার চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে কটকা ক্যাম্পের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহজনক নৌযানগুলোকে সরে যেতে সতর্ক করেন। তারা সরে না যাওয়ায় বনরক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে দুর্বৃত্তরা সমুদ্রের দিকে চলে যায়।
রেজাউল করিম বলেন, ওই সময় কাছাকাছি এলাকায় কয়েকটি পর্যটকবাহী নৌযান অবস্থান করছিল। তবে সেগুলোর ওপর কোনো ধরনের হামলা বা ডাকাতির চেষ্টা হয়নি।
যে জাহাজটিতে ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদ মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে সেই ‘দি ওয়েভ-২’জাহাজের স্বত্বাধিকারী আবু সায়েম বাবু বলেন, তাঁর জাহাজে কোনো ধরনের হামলা বা ডাকাতির চেষ্টা হয়নি। ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের কারণে সুন্দরবনের পর্যটন নিয়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।