সাংবাদিককে না পেয়ে নাবালক ছেলেকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ
পাঁচ ঘণ্টা পর পরিবারের জিম্মায় মুক্তি
খানজাহান আলী থানা
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪০ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনা নগরীর খানজাহান আলী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় স্থানীয় দৈনিক প্রবাহের নিজস্ব প্রতিবেদক সাইফুল্লাহ তারেককে আটক করতে না গিয়ে তাঁর সন্তানকে (১৬) ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে নগরীর গিলাতলা দক্ষিণপাড়ার বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পাঁচ ঘণ্টা পর শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীর মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয় তাকে। শিশুটি গিলাতলার একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। পাশাপাশি আরেকটি মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে লেখাপড়া করে সে। এ ঘটনায় পরিবারটি আতংকে ভুগছে।
ভুক্তভোগীর মা সুমনা বেগম অভিযোগ করেন, বাড়িতে অভিযানের সময় পরিবারের সদস্যদের গালাগাল এবং দুব্যর্বহার করে পুলিশ। অন্য সদস্যদের মারতে উদ্যত হয়। থানায় নিয়ে গেলে খানজাহান আলী থানার ওসি আবুল বাশার ওর বাবার নাম ধরে সন্তানকে গালাগাল করেন। ওসির নির্দেশেই তাঁর ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তাঁর। অবশ্য খানজাহান আলী থানার ওসি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাইফুল্লাহ তারেক স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। কিছুদিন আগে এলাকার আলোচিত মাদক বিক্রেতা শাবানার বাড়ি ভাঙচুর ও তাকে উচ্ছেদ করেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় পুলিশ শাবানার পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে হয়রানি করলে সাইফুল্লাহ তারেকসহ অন্য সাংবাদিকরা এ বিষয়ে থানার ওসি বিরুদ্ধে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে খানজাহান আলী থানার ওসি স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক জানান, গত সপ্তাহে শাবানার নিকটাত্মীয় মাংস বিক্রেতা আরমান শেখ গফ্ফার ফুড মোড়ে গরু জবাই করে বিক্রি করেন। জনবহুল মোড়ের ওপর গরু জবাই করায় রক্ত ও বর্জ্যের কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল। গফ্ফার ফুড মোড় দোকান মালিক সমিতির নেতারা সভা করে আরমানকে দোকান স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় আরমান এবং ওসি যোগসাজশ করে গত শনিবার গফ্ফার ফুড মোড় দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমিসহ চারজনের নামে চাঁদাবাজির মামলা করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার এজাহারে তাঁকে মাদকসেবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা নিশ্চিত না করেই ওসি অতিউৎসাহী হয়ে মামলাটি রেকর্ড করেন। সোমবার পুরে আরমান ও তার লোকজন নিয়ে পুলিশ আমার বাড়িতে যায়। তারা পরিবারের সদস্যদের গালাগাল ও বড় সন্তানকে ধরে নিয়ে যায়।
জানতে চাইলে খুলনা শিশু সুরক্ষা জোটের সভাপতি শামিমা সুলতানা শিলু বলেন, মামলা হলে পুলিশ তদন্ত করবে। কিন্তু বাবাকে না পেয়ে নাবালক ছেলেকে ধরে নিয়ে যেতে পারে না পুলিশ। এ মামলায় পুলিশের অতিউৎসাহ নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তদন্ত করে এর বিচার করা উচিত।
তবে খানজাহান আলী থানার ওসি আবুল বাশার বলেন, ওই ছেলে পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে। পুলিশকে গালাগাল করেছে। তাই তাকে ধরে আনা হয়েছিল। পরে জন্মসনদ এনে দেখা যায়, তার বয়স ১৬ বছর। তখন প্রবেশন অফিসারের জিম্মায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের গালাগাল ও মারধর করা হয়নি।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মাদক বিক্রেতা শাবানা ও আরমানের বাড়ি একই গ্রামে হলেও তারা আত্মীয় কিনা, জানা নেই। তদন্ত করেই পুলিশ মামলা গ্রহণ করেছে এবং প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।