ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ঘেরাও করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে পদত্যাগে বাধ্য করানোর অভিযোগ

ঘেরাও করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে পদত্যাগে বাধ্য করানোর অভিযোগ
×

ছবি: সমকাল

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৪৬ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:০৩

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে ঘেরাও করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও কৃষক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। একই সময় তার একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকেও মারধর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রামেবির কার্যালয়ে গিয়ে এ ঘটনা ঘটায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ‘ভিসি ঘেরাও কর্মসূচি’ নামে একটি মিছিল নিয়ে ওই ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে তাকে ঘেরাও করেন।

উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক অভিযোগ করেন, তার কাছে বিভিন্ন সময় ঠিকাদারি কাজ চাওয়া হয়েছিল। তাদের কাজ না দিয়ে ঢাকার একজন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার একদল ব্যক্তি কার্যালয়ে জোর করে ঢুকে পড়েন।

ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি লাঞ্ছিত করা হয়। আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের তৈরি করা একটি পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

উপাচার্যের ভাষ্য, পরে তাকে ধাক্কা দিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তার একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকেও অবরুদ্ধ করে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, ‘জোর করে এভাবে কখনো পদত্যাগ করানো যায় না। এটি কোনো নিয়মতান্ত্রিক পদত্যাগ নয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’

তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক ও কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় তিনি সেখানে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই বলেও জানান।

উপাচার্যের একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইন অভিযোগ করেন, রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শামীম, রাজপাড়া থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন, সহসভাপতি সালাম, লক্ষ্মীপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহিনসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন। পরে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিতে চান-এমন বক্তব্যসংবলিত কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। অস্ত্র ঠেকিয়ে তারা আমাকে স্বাক্ষর করায়। এটা কোনো ইস্তফা নয়, অস্ত্রের মুখে এটা করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। কারা করেছে, তা জানা নাই।’

মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি কিছুক্ষণ আগে জানতে পারলাম। কারা করেছে, কেন করেছে তা আমার জানা নেই। জড়িতদের কেউ বিএনপির হলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×