ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালী

কলেজছাত্রকে রাতভর নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা 

কলেজছাত্রকে রাতভর নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা 
×

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনিরুল ইসলাম ইমন। ছবি: সমকাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৫০

পটুয়াখালীতে মনিরুল ইসলাম ইমন নামে এক কলেজছাত্র শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, সাকিব আল হাসান নামে ছাত্রদলের এক নেতার নেতৃত্বে গত রোববার রাতভর তাকে নির্যাতন করা হয়। পরে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে সাকিব বলেছেন, ইমনকে এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় আটক এবং পরে মারধর করে জনতা। 

আহত ইমনকে গত সোমবার বিকেলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, ইমন মেঝেতে বসে আছেন। 

ইমন পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) পাস করেছেন। স্নাতকোত্তরে ভর্তি হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। ওষুধের ব্যবসাও আছে তাঁর। নির্যাতন ও পণ আদায় করে মুক্তি দেওয়ার অভিযোগে ইমনের বড় ভাই লিমন মাহমুদ গাজী বাদী হয়ে মঙ্গলবার পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করেছেন। 

ইমন সমকালকে বলেন, ‘পটুয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাকিব আল হাসান আমার পূর্বপরিচিত। রোববার রাত ১১টার দিকে বসাক বাজারে গেলে তাকে মোবাইলে মেসেজ পাঠাই। সে আমাকে চা পান করতে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে যেতে বলে। আমি সেখানে যাই ও চা পান করি। এরপর কথা বলতে বলতে ভেতরের রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকি। সাকিবের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। তখন আমার স্যামসাং গ্যালাক্সি এস-২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোনটি সাকিব নেয় এবং ভালো ছবি হয় বলে দুই/তিন দিন তার কাছে রাখতে চায়। আমি ফোন দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে চড়-থাপ্পড় মারে। পরে একটি বিদ্যালয়ে, কখনও পরিত্যক্ত বাড়িতে, কখনও বাসার মধ্যে নিয়ে আমাকে রাতভর পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আমার আপত্তিকর কিছু ছবি তুলে এবং ভিডিও ধারণ করে। এ ঘটনা কাউকে বললে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমি চুরি করতে এসেছি–এমন স্বীকারোক্তিও আমার কাছ থেকে আদায় করে তারা। তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আমাকে যা যা বলতে বলেছে আমি তাই বলেছি। তা না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলত। আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে সকালে এক লাখ টাকা পণ দিয়ে তাদের হাত থেকে মুক্তি পাই।’ 

মনিরুল আরও বলেন, ‘বছরখানেক হয় আমি বিয়ে করেছি। আমি কেন মেয়েলি ঘটনায় জড়াব? মূলত তারা নারীসংক্রান্ত ঘটনায় জড়িয়ে এই বর্বরোচিত ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।’ 

এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে সাকিব বলেন, ‘ওই ছেলেকে (ইমন) আমি চিনি না। অনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে এলে লোকজন ধরে তাকে ধরে উত্তমমধ্যম দেয়। আমি ডাক-চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি।’

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে, কারণ যাই হোক, ছেলেটি ভয়ানক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এটি মানা যায় না। আমরা বিষয়টির খোঁজ-খবর নিচ্ছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাকিবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনা শোনার পর পুলিশকে ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

×