ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

টিউমার সন্দেহে পরীক্ষার পর জানা গেল শিশুটি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, পলাতক নানা

টিউমার সন্দেহে পরীক্ষার পর জানা গেল শিশুটি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, পলাতক নানা
×
×

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৩০ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৫২

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হত্যার হুমকি দিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার সৎ নানার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি পেটে ব্যথা হলে স্বজনরা শিশুটিকে স্থানীয় এক গাইনি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। টিউমার হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও পরীক্ষার পর জানা যায়, শিশুটি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

অভিযুক্ত নানা রইচ উদ্দিন (৫৫) উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। বিষয়টি জানাজানি হলে আজ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কৌশলে পালিয়ে যান তিনি।

পুলিশ ও স্বজনের ভাষ্য, এক যুগ আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শিশুটির মা মারা যান। পরে তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর শিশুটির সৎ মা তাকে সৎ নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সেখানে একা পেয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে রইচ উদ্দিন শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ।

সম্প্রতি পেটে ব্যথা অনুভব করলে স্বজনরা শিশুটিকে স্থানীয় গাইনি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা রইচ উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। তবে পুলিশ আসার আগেই তিনি পালিয়ে যান।

অভিযুক্ত রইচ উদ্দিন

ঘটনার পর শিশুটি ও তার নানী কুমারখালী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। শিশুটিকে আবারও পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিশুটির নানী বলেন, ‘হত্যার হুমকি দিয়ে আমার নাতনিকে এক বছর ধরে ধর্ষণ করেছে সৎ নানা। পেটে ব্যথার কথা শুনে বাড়ির পাশের গাইনি চিকিৎসককে দেখালে তিনি জানান, নাতনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।’ শিশুটির মামা বলেন, ‘সঠিক বিচারের আশায় থানায় মামলা করতে এসেছি। আমরা উপযুক্ত শাস্তি চাই।’

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, শিশুটিকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

আরও পড়ুন

×