ভিডিও ভাইরাল
দরজা বন্ধ করে মাদ্রাসাছাত্রকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড়, বেঁধে রাখা হয় শিকলে
নির্যাতনের শিকার শিশু
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৫৬
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে শিশুদের মারধর এবং এক শিশুকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।
রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসায়ে বাবুত তাকওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে এক শিশুকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছে। একপর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে স্কেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতেও দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে এক শিশুকে দেয়ালের সঙ্গে ধরে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করার দৃশ্য রয়েছে। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজন শিশুকে মারধর করতে দেখা যায়।
নির্যাতনের শিকার শিশু আদনানের মা-বাবাসহ কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। দীর্ঘদিন ধরে শাসনের নামে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। কোনো কোনো শিশুকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখারও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
একজন অভিভাবক বলেন, ‘সন্তানকে ভালো মানুষ করার আশায় মাদ্রাসায় পাঠিয়েছি। সেখানে যদি তাকে মারধর করা হয়, শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই।’
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী মিজান ও কামাল বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিশুকে শারীরিকভাবে আঘাত বা ভয়ভীতি দেখানোর সুযোগ নেই। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা বের করার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও মুহতামিম মাওলানা হাবিবুল্লাহ নীরব তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছে। আমরা তাকে বহিষ্কার করেছি।’
২০২৫ সালে রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করছে বলে জানা গেছে।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, প্রধান শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। অভিভাবকেরা তাঁর কাছে এসেছিলেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।