‘কথা কস ক্যারে’ বলে শিক্ষিকাকে থাপ্পড়, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:১৮
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় শুনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টাফ সভা চলাকালে সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে থাপ্পড় মারার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন খান। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিদ্যালয়ে স্টাফ সভা চলছিল। সভার শুরুতে উপস্থিতির স্বাক্ষর নেওয়ার সময় দ্রুত আলোচনা শুরু করার জন্য প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামকে তাগাদা দেন সহকারী শিক্ষক খুরশেদ আলম।
উপস্থিতির স্বাক্ষর শেষ হওয়ার পর আলোচ্যসূচি অনুযায়ী সভার কার্যক্রম শুরু হবে জানালে এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে খুরশেদ আলমের কথা-কাটাকাটি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষককে ‘অযোগ্য প্রধান শিক্ষক’ বলে মন্তব্য করেন এবং তাকে মানেন না বলেও বক্তব্য দেন বলে লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এ সময় সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করলে খুরশেদ আলম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। পরে তাকে ‘কথা কস ক্যারে’ বলে থাপ্পড় মারেন। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেওয়া এবং সভাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর উপজেলা শিক্ষা বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন খান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে খুরশেদ আলমকে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে উত্তেজিতভাবে কথা বলতে শোনা যায়। এ সময় পাশে বসা শিক্ষিকা তাকে শান্ত হতে বললে খুরশেদ তার উদ্দেশে বলেন, ‘থাপ্পড় দিয়া দাঁত ফালাইয়া দিবো, কথা কস ক্যারে?’ জবাবে শিক্ষিকাকে বলতে শোনা যায়, ‘এখন রাখুন, এটা অফিস।’ এরপর খুরশেদ বলেন, ‘অফিস হইছে দেইখ্খা কী হইছে? আমি কি কেউর কর্মচারী?’ এরপর খুরশেদ শিক্ষিকাকে থাপ্পড় মেরে বলেন, ‘বাইর হ।’
প্রধান শিক্ষককে হুমকির অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম আরও দাবি করেন, শিক্ষিকাকে থাপ্পড় মারার ঘটনার প্রতিবাদ করায় খুরশেদ আলম তার ওপরও ক্ষিপ্ত হন। এ সময় তাকে নিজের বিরুদ্ধে লিখতে বলেন এবং ‘আমি কাউকেই মানি না’- এমন বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তাকে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও খুরশেদ আলম বিদ্যালয়ের অন্য সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ খুরশেদ আলমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।