বুলডোজারে ভাঙা হলো এবি পার্টি নেতার বাড়ির সীমানাপ্রাচীর
বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া সীমানা প্রাচীর
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কেন্দ্রীয় সহ-প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফিরোজ কবিরের লালমনিরহাটের পৈতৃক বাড়িতে হামলা ও পৌরসভার বুলডোজার দিয়ে সীমানাপ্রাচীর গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর ভাই আইনজীবী হুমায়ুন কবির।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে লালমনিরহাট শহরের নবাবেরহাট এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ফিরোজ কবির। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা ফরহাদ আহমেদ সম্রাট ও তাঁর বাহিনী গত সোমবার দুপুরে পৌরসভার বুলডোজার এনে প্রকাশ্যে বাড়ির সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দেয়। জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে হামলা ও ভাঙচুর চালানো ন্যক্কারজনক।
হুমায়ুন কবির অভিযোগ করে বলেন, ‘পৈতৃক জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। মামলা তুলে নিতে তারা প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছিল। গত সোমবার দুপুরে আমি আদালত চত্বরে থাকাকালে খবর পাই ভেকু নিয়ে সম্রাট ও তাঁর লোকজন বাড়ি ভাঙচুর করছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে আমাকে তারা এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে ৯৯৯-এ ফোন করা সত্ত্বেও মাত্র এক কিলোমিটার দূরের সদর থানা থেকে পুলিশ আসতে এক ঘণ্টা সময় নেয়।’
অভিযোগ অস্বীকার করে জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতি ফরহাদ আহমেদ সম্রাট বলেন, ‘ফিরোজ কবির ও তাঁর ভাই আমার চাচাতো ভাই। এটি আমাদের পারিবারিক বিষয়, এর সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। ২০২১ সালে তারা যুবলীগের ক্যাডার নিয়ে আমাদের ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়ে জায়গা দখল করেছিল। ভাঙচুরের সঙ্গে আমি জড়িত নই, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এটি করে থাকতে পারে।’
এদিকে এবি পার্টি নেতার বাসভবনে তাণ্ডবের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘পৌরসভার যন্ত্র ব্যবহার করে একজন রাজনৈতিক কর্মীর বাসভবন ভেঙে দেওয়া সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না। এটি কেবল ফিরোজ কবিরের ওপর হামলা নয়, বরং প্রশাসনিক শক্তিকে ব্যবহার করে ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়নের এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।’ তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ফিরোজ কবির তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও কৃষকদের সারের ন্যায্য দাবিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চার। এসব জনদাবি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট ও কথা বলার কারণে প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতা তাঁকে প্রতিনিয়ত ফোন করে গালাগাল ও ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী গতকাল রাতে সমকালকে বলেন, পৌরসভার কোনো বুলডোজার নেই। একটি ভেকু আছে, সেটিও নষ্ট। হয়তো লালমনিরহাট থেকে বুলডোজারটি ভাড়া করে আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ জানান, ‘অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- সীমানা নির্ধারণ