ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

অডিট চলাকালে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু

অডিট চলাকালে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু
×
×

মো. আব্দুস সালাম। ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:০৬ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৩৫

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখায় অডিট চলাকালে মো. আব্দুস সালাম (৫০) নামে এক শাখা ব্যবস্থাপকের মৃত্যু হয়েছে। কীটনাশকযুক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের পর মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে নিরাপত্তার জন্য অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সালাম পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরের বাসিন্দা। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তিনি নিমগাছী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখার কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে শাখায় অডিট চলছিল। এ সময় আব্দুস সালামকে হতাশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে বাঁচতে দেওয়া হলো না। আমি মারা যাব।’ পরে তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের কথা জানান। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা ও ব্যাংকের কর্মীরা অডিট কমিটির সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে যায়।

গ্রামীণ ব্যাংক সিরাজগঞ্জ জোনাল অফিসের ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অডিট চলমান রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার অডিট শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন, তা এখনো জানা যায়নি। তার বিরুদ্ধে কোনো অডিট আপত্তিও ওঠেনি। গ্রামীণ ব্যাংক বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তার স্ত্রীও থানায় অভিযোগ করতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন।

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, মবের হাত থেকে নিরাপত্তা দিতে অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলেও মরদেহ এখনো রায়গঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এ ঘটনায় গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও কোনো মামলা বা অভিযোগ দেওয়া হয়নি। নিহতের স্ত্রী ও স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’

নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম বলেন, আমার স্বামীর মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে কোনো ঝামেলা ছিল না। চাকরির ঝামেলার কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি পুলিশি তদন্তের ব্যাপার এবং এখনো পরিষ্কার কিছু জানতে পারিনি।

আরও পড়ুন

×