ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, চিকিৎসকের পোস্ট ভাইরাল
ফাইল ছবি
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:১৯
‘আপনারা (প্রসূতি) একটা কাজ করবেন এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন অথবা ব্যথা কেন উঠছে না, পানি কেন ভাঙছে– এই যাবতীয় সিদ্ধান্ত সাংবাদিক থেকে নিয়ে উনাকেই বলবেন চিকিৎসাটা করতে।’ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি বেসরকারি হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক খাইরাতুন হিসান কেয়া নিজের ফেসবুকে এমনই লেখা পোস্ট দিয়েছেন।
ডা. কেয়া আরও লিখেন, ‘আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নরমাল ডেলিভারি করেছি। আপনারা কতবড় নিমকহারাম মানুষজন। আমি কাদের উপকার করলাম এতদিন! এখন থেকে ওই মুহূর্ত থেকে আমি বলে দিচ্ছি যে সব রোগী ৫ মাসের পর থেকে আমার ফলোআপে থাকবে শুধু তাদের দায়িত্ব আমি নেব। অন্য কারও রোগী আমার কাছে আসবেন না দয়া করে। আমি তাদের দেখবও না, ডেলিভারিও করবো না।’
আজ বুধবার সকাল থেকে তার এই পোস্ট ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠলে কয়েক ঘণ্টা পর বিতর্কিত ওই পোস্ট মুছে ফেলা হয়। ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের বরাত দিয়ে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এই পোস্ট দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৩ অক্টোবর গভীর রাতে শুভপুর ইউনিয়নের খামার পুষ্করণী গ্রামের ওমান প্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী নাজমা আক্তারের প্রসব বেদনা ওঠে। ৪ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে তাকে উপজেলা সদরের আল-নূর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে ওই চিকিৎসক প্রসূতির নরমাল ডেলিভারি করাতে গেলে নবজাতকের মাথায় আঘাত পায়। একপর্যায়ে ডা. কেয়া অন্য গাইনি চিকিৎসক নাহিদ সুলতানাকে হাসপাতালে নিয়ে এলে রোগীর অবস্থা দেখে তাকে দ্রুত আইসিইউ সংযুক্ত হাসপাতালে নিয়ে সিজার করাতে বলেন। এ সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতি নাজমা আক্তারের শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বজনরা নাজমা আক্তারকে কুমিল্লা নগরীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরিবারের অভিযোগ সেখানকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সহায়তায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত নবজাতকের জন্ম হয়। প্রসূতি নাজমা আক্তার এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেখানে চিকিৎসাধীন।
প্রসূতি নাজমা আক্তারের প্রবাসী স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান মোবাইল ফোনে জানান, বিয়ের পর প্রথম সন্তান জন্ম নেবে বলে বেশ আনন্দিত হয়েছেন তিনি। ডা. কেয়ার অবহেলায় তার সন্তানের মৃত্যু হয়। মৃত সন্তানের মাথায় কাটা জখমের চিহ্ন দেখা গেছে। তার স্ত্রীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি নিয়ে পুরো পরিবার চিন্তিত। এই ঘটনার বিচার চান তিনি।
জানতে চাইলে ডা. কেয়া বলেন, ‘ফেসবুকে এমন পোস্ট দেওয়া ঠিক হয়নি, এমন কথা আমার অনেকে শুভাকাঙ্ক্ষীই বলেছেন। তাই কিছু সময় পর আমি ওই পোস্টটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’
তার ভাষ্য, ওই প্রসূতির নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেছেন তিনি এবং রোগীর অবস্থা ভালো না থাকায় দ্রুত তাকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন। তবে নবজাতকের মৃত্যু ও মাথায় আঘাতের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল বলেন, ‘ফেসবুক পোস্টে যে ভাষা দেখলাম এটা কোনো চিকিৎসকের ভাষা হতে পারে না। এই নারী সরকারি চিকিৎসক নন। তবে তিনি কী কারণে এমন আচরণ করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে এই ধরণের লেখা লিখেছেন তা আমরা খতিয়ে দেখছি।’
- বিষয় :
- কুমিল্লা
- চিকিৎসক
- প্রসূতির মৃত্যু