ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পাঁচ মাস বন্ধ তিন গভীর নলকূপ, ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ বিঘা ধান

‘এক দপ্তর বলে অন্য দপ্তরে যান’

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পাঁচ মাস বন্ধ তিন গভীর নলকূপ, ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ বিঘা ধান
×

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন একটি নলকূপ। ছবি: মওদুদ আহম্মেদ

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:১৫

বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন লাগার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এরপর প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে তিনটি গভীর নলকূপ। পল্লী বিদ্যুৎ ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সংযোগ সচল হয়নি বলে অভিযোগ কৃষক ও গভীর নলকূপ মালিকদের। ফলে সেচের অভাবে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের আওয়ালগাড়ী-উলিপুর মাঠের তিনটি স্কিমের প্রায় ৫০০ বিঘা জমির আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

কৃষকদের অভিযোগ, এক দপ্তর তাদেরকে অন্য দপ্তরে যেতে বলেন। কোনো দপ্তরই সংযোগ সচল করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তবে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাত্র দুই দিন আগেই বিষয়টি জেনেছেন তারা। এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছে, কৃষকরা একটি দায়সারা অভিযোগ করে চলে যান। পরবর্তীতে আর যোগাযোগ না করায় বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়নি। 

বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের অনেক জমির মাটি শুকিয়ে ফেটে গেছে। কোথাও ধানের গোছা শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সেচের জন্য স্থাপিত গভীর নলকূপগুলো বন্ধ পড়ে আছে। ফলে বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকা কৃষকদের অনেকেই এখন ফসল নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন মৌসুমে বৃষ্টির ওপর ধানের আবাদ অনেকটা নির্ভরশীল। তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মাঠে সেচের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ওই মাঠের প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে সেচের প্রধান উৎস তিনটি গভীর নলকূপ। কিন্তু নলকূপ মালিকদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ পুনঃস্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। 

ওই মাঠে এবার চার বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, সেচ দিতে না পারায় জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ধানও শুকিয়ে যাচ্ছে। শেষ সময়ে এসে সেচের ব্যবস্থা না হলে আমার পুরো বিনিয়োগই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুকনো মাঠে দাঁড়িয়ে আছেন একজন কৃষক। ছবি: মওদুদ আহম্মেদ

কৃষক সেকেন্দার আলী বলেন, ধানের জমিতে এখন পানি খুব প্রয়োজন। নলকূপ বন্ধ থাকায় আমরা সময়মতো সেচ দিতে পারছি না। কয়েক দিন এভাবে চললে ধানের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাবে।

মাঠের গভীর নলকূপ মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রায় পাঁচ মাস আগে ইরি (বোরো) মৌসুমের শেষ দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে একটি খুঁটিতে আগুন লাগে। ওই লাইন থেকেই তাঁর দুটি এবং পাশের আরেকটি স্কিমের গভীর নলকূপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। আগুন লাগার পর তিনটি নলকূপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর গত জুন মাসে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর জোনাল অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি। একাধিকবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে বরেন্দ্র অফিসে যেতে বলা হয়। আবার বরেন্দ্র অফিসে গেলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। দুই দপ্তরের মধ্যে এভাবে ঘুরতে ঘুরতেই প্রায় পাঁচ মাস কেটে গেছে বলে অভিযোগ তার।’ 

তিনি বলেন, ‘এখন আমন ধানের সেচের সময়। প্রায় ৫০০ বিঘা জমি এই তিনটি নলকূপের ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো পানি না পাওয়ায় কৃষকেরা বিপদে পড়েছেন।’ 

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আজই জানতে পেরেছি। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে। আমরা সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করব। আশা করছি দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হবে।’

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আক্কেলপুর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মনসুর আলী সরদার বলেন, ‘ঘটনাটি আমি দুই দিন আগে জেনেছি। বিষয়টি জানার পরই গভীর নলকূপগুলোতে বৈদ্যুতিক সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করেছি। ইতোমধ্যে সংযোগ চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আব্দুর রহমান সরকার বলেন, ‘ইরি মৌসুমের শেষের দিকে তারা একটি দায়সারা অভিযোগ দিয়ে চলে যান। পরবর্তীতে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। সম্প্রতি আবার অফিসে আসায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাট থেকে একটি কাঠের খুঁটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্রুত সংযোগ চালু করা হবে।’

আরও পড়ুন

×