পায়রা বন্দরে ভিড়ল বিদেশি জাহাজ
চায়না থেকে জাহাজটি পণ্য নিয়ে ফার্স্ট টার্মিনালে এসে ভিড়েছে। ছবি: সমকাল
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০১:২১ | আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০১:২৪
প্রায় আড়াই বছর পর পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে পাঁচটি আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টসহ একটি পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়েছে। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে জাহাজটি ইকুইপমেন্টসহ সরাসরি ফার্স্ট টার্মিনালে এসে ভিড়েছে।
এর আগে, পায়রা বন্দরের ফার্স্ট টার্মিনালে ২০২৪ সালের ১৫ মে ৫০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে এম ভি জেইন এবং একই বছরের ১ নভেম্বর ৪৮ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে ‘এম ভি ডা হোঙ-১৬’ নামের দুটি মাদার ভেসেল বার্থিং করে কার্গো খালাস করে। এ নিয়ে মোট তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি পায়রা বন্দরের ফার্স্ট টার্মিনালে ভিড়ল। চায়না থেকে জাহাজটি পণ্য নিয়ে এসেছে।
দীর্ঘ বিরতির পর আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টবাহী জাহাজের আগমনের মাধ্যমে পায়রা বন্দরের ফার্স্ট টার্মিনালে (জেটিতে) পুনরায় সরাসরি জাহাজ বার্থিং কার্যক্রম শুরু হলো। ৬ মিটার গভীরতার ১৭০ মিটার দীর্ঘ পণ্যবাহী জাহাজ বার্থিংয়ের ঘটনায় বন্দরের জেটি অঙ্গনে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। জাহাজে আসা পাঁচটি ইকুইপমেন্ট হচ্ছে ৮০ টন ধারণক্ষমতার দুইটি এসটিএস ক্রেন। ৪০ টন ধারণক্ষমতার দুইটি আরটিজি ক্রেন। ৮০ টন ধারণক্ষমতার একটি মোবাইল হারবার ক্রেন। এই জাহাজটি আসায় বাড়ছে পায়রা বন্দরের কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা। পায়রা বন্দরের সহকারী পরিচালক আজিজুর রহমান (ট্রাফিক) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, এর মধ্য দিয়ে দ্রুত ও দক্ষ হবে কার্গো-কনটেইনার হ্যান্ডলিং নতুন সংযোজিত এসটিএস ক্রেনের মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে কনটেইনার লোড ও আনলোড কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে এসটিএস ক্রেনের মাধ্যমে ট্রেইলার থেকে কনটেইনার লোড-আনলোড এবং ইয়ার্ডে কনটেইনারের সুশৃঙ্খল সংরক্ষণ ও স্থানান্তর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে, এমএইচজির মাধ্যমে বাল্ক কার্গো ও কনটেইনার ডিসচার্জিং বা শিপিং কার্যক্রম আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ফলে পায়রা বন্দরের কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমবে, অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্বল্পতম সময়ে জাহাজ থেকে কার্গো ও কনটেইনার খালাস করা সম্ভব হবে।
পায়রা বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস সাইফ-উল- ইসলাম বলেন, ‘পায়রা বন্দরের জন্য আজকে একটা শিুভ দিন বলা যায়। প্রায় আড়াই বছর পরে একটা বিদেশি জাহাজ সরাসরি জেটিতে আসল। এখানে ২টা ৮০ টনের এসটিএস, একটা মোবাইল হারবার ৮০ টনের, দুইটি এসটিএস আরটিজি ৪০ টনের, ক্রেন এখানে নিয়া আসা হয়েছে। ধীরে ধীরে আমরা যে সক্ষমতা দিকে এগিয়ে যাচ্ছি সেটাকে পূর্ণতা দিলো। ক্রেনগুলো আসার মাধ্যমে আমাদের ৬৫০ মিটারের মাল্টিপারপাস বার্থ পূর্ণ প্রস্ততি পেলো।’
রিয়ার অ্যাডমিরাল আরও বলেন, ‘পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে এসব আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংযোজনের ফলে বন্দরের কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কার্গো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পায়রা বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে এর সক্ষমতা বিকাশের পথ সুগম হবে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে বৃহৎ মাদার ভেসেল হ্যান্ডলিংয়ের সম্ভাবনা ভবিষ্যতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি করা হলে অধিক ড্রাফটের বৃহৎ মাদার ভেসেল সরাসরি পায়রা বন্দরের জেটিতে আসতে সক্ষম হবে। এর ফলে একদিকে যেমন বৃহৎ পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পায়রা বন্দরের অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এ থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে।
পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে আধুনিক এসব কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টের সংযোজনকে পায়রা বন্দরের আধুনিকায়ন, অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের সমুদ্রবন্দরভিত্তিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ সময় পায়রা বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- পটুয়াখালী