১৩ মাসের শিশুকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি, দাদা-দাদিসহ গ্রেপ্তার ৫
গ্রেপ্তার ৫ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৬:৩৮
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঢাকার দোহার থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে শিশুটির দাদা-দাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার ভোররাতে দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার ও তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- শিশুটির দাদা উজ্জ্বল মিয়া (৫০), দাদি আয়েশা খাতুন (৪৫), ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং দোহারের হরিচণ্ডী এলাকার বাসিন্দা আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী শিখা (৩৫)। আবেদ ও শিখার কাছ থেকেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে ঈশ্বরগঞ্জের মাইজহাটি এলাকার নাঈম মিয়ার (২৫) সঙ্গে রোজিনা বেগমের (২১) বিয়ে হয়। তাঁদের একমাত্র সন্তান মোজাহিদের বয়স ১৩ মাস। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তখন শিশুটিকে নিজের কাছে রেখে দেন নাঈম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে জীবিকার তাগিদে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন রোজিনা।
রোজিনা স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দুই লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরদিন রাতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সন্তানের সন্ধান চাইলে তাঁকে গালাগাল ও মারধর করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সন্তানের সন্ধান না পেয়ে গত সোমবার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রোজিনা। পরে জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় শিশুটির অবস্থান দোহারে শনাক্ত করার পর বুধবার ভোররাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শিশুটিকে উদ্ধার এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রোজিনা বেগম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, যে দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। লালন-পালনের উদ্দেশ্যেই তাঁরা শিশুটিকে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে শিশুটিকে হস্তান্তরের আইনগত প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না।
ওসি বলেন, শিশুটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে নিরাপদ রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
- বিষয় :
- ময়মনসিংহ
- সন্তান বিক্রি
- গ্রেপ্তার