ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

‘যদি মেরেই ফেলেন, লাশটা মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েন’

‘যদি মেরেই ফেলেন, লাশটা মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েন’
×
×

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনিসুজ্জামান জামান সমকাল

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৭ | আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘আমাকে যদি মেরেই ফেলেন, লাশটা অন্তত আমার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েন।’ গতকাল বুধবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনিসুজ্জামান জামান নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন। চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁকে ডেকে নিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে তাঁর ডান পা ভেঙে দেওয়া হয়। মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সাতটি সেলাইও পড়েছে।

জামানের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামে। তিনি প্রয়াত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। জামানের ভাষ্য, গত সোমবার সকালে চাকরির কথা বলতে মুক্তাগাছার রসুলপুর এলাকায় গেলে চার ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাঁর দুই হাত ধরে নাকের কাছে টিস্যুর মতো একটি বস্তু ধরেন। এরপর তাঁর আর কিছু মনে নেই। দুপুর আড়াইটার দিকে জ্ঞান ফিরে দেখেন, ধলেশ্বরী নদীর পাড়ের একটি খোলা জায়গায় তাঁকে মারধর করা হচ্ছে। পরে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ১২ বছর ধরে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মা জাহানারা বেগম কোথা থেকে পাঁচ হাজার টাকা সংগ্রহ করে পাঠান। তবু জামানকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।

জামান জানান, নির্যাতনের এক পর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। রাত ৯টার দিকে জ্ঞান ফিরলে হামাগুড়ি দিয়ে সড়কে উঠে চিৎকার করলে পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। রাত আড়াইটার দিকে বড় বোন বদরুন্নেসা সালমা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

জামানের বড় বোন বদরুন্নেসা সালমা বলেন, ‘আমার ভাইটা খুব সহজ-সরল। পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার পর আরও টাকার জন্য তাঁকে মারধর করে অজ্ঞান করে ফেলেছে। পা ভেঙে দিয়েছে, মাথায় সাতটি সেলাই লেগেছে। আমাদের আর্থিক অবস্থাও ভালো না। এখন আমরা ঘটনার বিচার চাই।’

কাঁদতে কাঁদতে জামানের মা জাহানারা বেগম জানান, বাড়িতে জামানই তাঁর দেখাশোনা করেন। ১২ বছর ধরে ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাদের অবস্থা খুব খারাপ।

এই অসহায় মা আলাপের একপর্যায়ে বলেন, ‘আমার আলাভোলা ছেলেটাকে যারা তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছে, আল্লাহ যেন তাদের বিচার করেন।’

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন জানান, পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×