নারায়ণগঞ্জ বারে দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তেজনা
নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতি ভবনে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে গতকাল বুধবারও ছিল উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সমকাল
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জ বারে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। গতকাল বুধবার সিটি প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে তাঁর সমর্থক আইনজীবীরা আইনজীবী সমিতি ও আদালতের বিভিন্ন প্রাঙ্গণ ঘুরে শোডাউন করেন। এ সময় প্রতিপক্ষের আইনজীবীরাও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের গ্রুপ বিক্ষোভ মিছিল করবে বলে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার যেখানে দুই গ্রুপের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে গতকাল দুপুর দেড়টায় গিয়ে দেখা যায় আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের গ্রুপের আইনজীবীরা সেখানে খাবার খাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পিপি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জাকিরের দুই আঙুল দেখা গেল প্লাস্টার করা। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাতাহাতিতে তাঁর দুই আঙুল মচকে গেছে। টিস্যু ছিঁড়ে গেছে।
তার পাশেই বসে ছিলেন অ্যাডভোকেট খোরশেদ মোল্লা। যিনি নারী ও শিশু আদালতের পিপি ছিলেন। তাঁর জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে। কিন্তু এক পক্ষের আইনজীবীরা তা মেনে নিচ্ছেন না। ফলে দেড় মাস ধরে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েও অফিসে বসতে পারছেন না সুমন মিয়া। অ্যাডভোকেট খোরশেদ মোল্লা আইন পেশার শুরু থেকে আদালতে আইনজীবীদের বিএনপিপন্থি গ্রুপে আছেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও আমি পিপি ছিলাম। অথচ আফসোস, দল ক্ষমতায় আসার পর আমাকে বাদ দিয়ে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় নন কখনোই। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে বিভিন্ন সময়ে দুর্ভোগের শিকার হয়েছি। অথচ এখন বঞ্চিত হতে হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ আদালতে সুমন মিয়া তুলনামূলক কম পরিচিত আইনজীবী বলে জানান বাম ঘরানার একজন আইনজীবী।
গতকাল নিজ সমর্থক আইনজীবীদের নিয়ে বার ভবনের বিভিন্ন তলা ও আদালত ভবনের বিভিন্ন স্থানে শোডাউন করেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এক পর্যায়ে তিনি নারী ও শিশু আদালতের পিপির কক্ষের সামনে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেনের সমর্থকরা আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। ফলে তারা সেখান থেকে উত্তেজনা এড়িয়ে অন্যদিকে চলে যান।
সন্ধ্যায় অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন টেলিফোনে বলেন, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে দুঃখ প্রকাশের প্রশ্নই আসে না। আমরা কোনো অপরাধ করিনি। বরং নিজ দায়িত্ব ছেড়ে আইনজীবী ভবনে এসে আমাদের ওপর হামলার জন্য আমরা তাঁর বিচার চাইতে পারতাম, কিন্তু সেটা করিনি। বৃহস্পতিবার (আজ) নতুন জুডিশিয়াল ভবনে আইনজীবীদের নেওয়ার পাঁয়তারার প্রতিবাদে ও মঙ্গলবারের ঘটনার প্রতিবাদে তারা আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমি আজকে (গতকাল) পিপি সুমন মিয়াকে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সুমন মিয়াকে তাঁর চেম্বারে বসতে দেয়নি। তারা আদালতে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি করে রেখেছে।
- বিষয় :
- আইনজীবী সমিতি